স্থানীয় একশ্রেণির প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়াকে চোরাকারবারিদের স্বর্গরাজ্য বানানো হচ্ছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার ভাণ্ডারিয়া থেকে ৬ হাজার ৭০০ বস্তা চোরাই সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে প্রভাবশালী কয়েক জন রাজনীতিবিদের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে খুলনায় পণ্য পরিবহনে ভাণ্ডারিয়ার কচা নদী ব্যবহার করা হয়। এই নদীতে চলা কার্গো থেকে মালামাল লুট করে বাঞ্চার খাল ও নদবুল্লাহ খাল দিয়ে ভাণ্ডারিয়ায় মজুত করা হয়। এরপর সেগুলো বিক্রি বা ভাগবাঁটোয়ারা করা হয়।
গত ২২ অক্টোবর নারায়াণগঞ্জ থেকে খুলনায় যাওয়ার পথে আকিজ গ্রুপের একটি কার্গো থেকে ৮ হাজার বস্তা সিমেন্ট চুরি হয়। এই চোরাই পণ্য ভাণ্ডারিয়ায় নিয়ে মজুত করা হয়। সিমেন্ট বহনের ঠিকাদার জিয়াউর রহমান জিয়া ঐ দিনই ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। মামলায় কার্গোর সুকানি বাদলসহ চার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। এর পরদিনই পুলিশ পটুয়াখালী লঞ্চঘাট থেকে কার্গোটি উদ্ধার করে। গ্রেফতার করে বাদলকে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গত শুক্রবার ভাণ্ডারিয়ায় অভিযান চালিয়ে বাঞ্চার খালের পাশে জসিম খানের ইটভাটার পাশের বাগান থেকে ৬ হাজার ৭০০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করে। ঘটনার সঙ্গে জসিম খানের সম্পৃক্ততা মিলেছে। তাকে স্থানীয় কয়েক জন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। তবে অবশিষ্ট ১ হাজার ৩০০ বস্তা সিমেন্ট এখনো উদ্ধার হয়নি। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল কাইয়ুম এসব তথ্য জানান। তিনি আরো বলেন, গত রবিবার স্থানীয় আদালত মালিককে সিমেন্টগুলো বুঝিয়ে দিতে বলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার মালিকের কাছে ৬ হাজার ৭০০ বস্তা সিমেন্ট বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে কার্গোটি আমাদের হেফাজতে আছে।
জানা গেছে, এর আগে একটি ট্রাক ৮০ টন পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় ভাণ্ডারিয়ার একটি ব্রিজ ভেঙে যায়। তখন স্থানীয় লোকজন ট্রাকটি আটক করে। পরে পুলিশ ট্রাকটি তাদের জিম্মায় নেয়। স্থানীয় আদালত ট্রাকটি মালিকের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দিলেও উচ্চ আদালত তা থানা পুলিশের হেফাজতে রাখার আদেশ দেন।
ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি এস এস মাকসুদুর রহমান জানান, সুকানি বাদলকে রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আগামী ২ নভেম্বর শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। বাদলকে রিমান্ডে আনলে জানা যাবে, এই চুরির ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত। যাদের নাম পাওয়া যাবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
তবে স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, বাঞ্চার খালের পাশে সিমেন্ট নামানোর পর স্থানীয় কয়েক জন প্রভাবশালী সেগুলো ভাগ করে নিয়ে যান। তাদের গোডাউন থেকেই সিমেন্টগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের আড়ালে রাখতে বাগান থেকে সিমেন্ট উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে। শুধু এই একটি ঘটনা নয়, এর আগেও কচা নদী দিয়ে যাওয়া বিভিন্ন কার্গো থেকে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব চোরাই মালামাল রাখা হচ্ছে ভাণ্ডারিয়ায়। এসব কাজে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদেরা ছাড়াও প্রশাসনেরও কেউ কেউ সম্পৃক্ত থাকতে পারেন—এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।
