কমিউনিস্ট নেতা, মুক্তিযোদ্ধা ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক হায়দার আনোয়ার খান জুনো আর নেই। রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা হায়দার আকবর খান রনোর ছোট ভাই। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদসহ বিভিন্ন দলের নেতারা জুনোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
নিউমোনিয়ার মধ্যে হার্ট অ্যাটাক হওয়ায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে জুনোকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২৪ সেপ্টেম্বর লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার ক্রমাবনতি হতে থাকলে ২২ অক্টোবর স্কয়ার হাসপাতাল থেকে তাকে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় যোগাযোগ করে হায়দার আনোয়ার খান জুনোর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।
মরহুম জুনোর কন্যা অনন্যা লাবণী গণমাধ্যমকে জানানা, মরদেহ বারডেম হাসপাতালের মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছে। আজ শুক্রবার কেন্দ ীয় শহীদ মিনারে মরদেহ নেওয়া হতে পারে। বাদ জুমা জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে তার বাবা-মায়ের কবরে সমাহিত করা হবে।
মরহুম জুনোর জন্ম ১৯৪৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায়। তাদের পৈতৃক নিবাস নড়াইলের বরাশুলা গ্রামে। বাবা হাতেম আলী খান ছিলেন প্রকৌশলী। প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ সৈয়দ নওশের আলী তার নানা। স্কুলজীবনেই কমিউনিস্ট রাজনীতির দীক্ষা নেন জুনো। পাকিস্তান আমলে ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনে যুক্ত হয়ে কারাবরণ করেন। তখন তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় কর্মী। তার ভাই রণো তখন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি। পরে জুনো ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ষাটের দশকে কমিউনিস্ট আন্দোলনে জড়িয়ে পড়া জুনো ছিলেন চীনপন্থি শিবিরে। ১৯৭০ সালে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন গঠিত হলে তিনি এর সভাপতির দায়িত্ব নেন। স্বাধীনতার পর জুনো লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে তিনি ইউনাইডেট পিপলস পার্টির (ইউপিপির) সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হন। ১৯৭৯ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি গঠিত হলে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন তিনি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন। বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত আবদুল মান্নান ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তিনি নরসিংদীর শিবপুরে প্রতিরোধ যুদ্ধেও অংশ নেন।
