চিকিত্সার নামে প্রতারণা

মোহাম্মদপুরের তিন হাসপাতালের ছয় জনের কারাদণ্ড

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০০:৪৭

রাজধানীতে সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের স্বল্প মূল্যে উন্নত চিকিত্সার প্রলোভন দেখিয়ে একটি চক্র নিয়ে যেত নামসর্বস্ব হাসপাতালে। রোগীদের চিকিত্সার নামে প্রতারণার দায়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের তিনটি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েক জনকে কারাদণ্ড দিয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।  

বুধবার রাত ১০টা থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও শ্যামলী এলাকায় নুরজাহান অর্থোপেডিক্স হাসপাতাল, ক্রিসেন্ট হাসপাতাল লিমিটেড ও মক্কা-মদিনা জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালায় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও র্যাব-২-এর সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।

অভিযান সম্পর্কে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, মোহাম্মদপুরের নুরজাহান অর্থোপেডিক হাসপাতালটি এতটাই অপরিচ্ছন্ন যে ফ্লোরে রক্ত মাখা কাপড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। চিকিত্সার নামে সেখানে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। আর এসব অভিযোগে ওয়ার্ড হাসপাতালটির বয় জাহাঙ্গীর হোসেনকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং হাসপাতালটির পরিচালক বাবুল হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযান শেষে হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

পলাশ কুমার বসু বলেন, রাজধানীর শ্যামলী ও মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে হাসপাতালে কম খরচে উন্নত চিকিত্সার আশ্বাসে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে আনে দালাল সিন্ডিকেট। তারা রোগী আনার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া।

অপরদিকে ক্রিসেন্ট হাসপাতালের পরিচালক হাজি মোহাম্মদ আবুল হোসেন পাশ করেছেন এইচএসসি পর্যন্ত। অথচ তিনি একাধারে হাসপাতালটির পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক। রোগীদের ভাঙা হাত-পায়ের এক্সরে দেখে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিতেন তিনি নিজেই। এমনকি হাসপাতালের অনুমোদনও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে আরো চার মাস আগে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আবুল হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও হাসপাতালটিকে সতর্ক করা হয়েছে।

মক্কা-মদিনা হাসপাতালের পরিচালক নূর নবীরও কোনো ধরনের চিকিত্সা দেওয়ার সনদ বা অনুমোদন নেই। অথচ তিনি রোগী দেখছেন এবং তাদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। হাত-পা ভাঙাসহ বিভিন্ন গুরুতর আহত যে রোগীরা আসছেন, তাদের অপারেশনের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছিলেন। এসব অপরাধে নূর নবীকে এক বছরের কারাদণ্ড, আনোয়ার হোসেন কালু ও তার সহযোগী আব্দুর রশিদকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মক্কা-মদিনা হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।