নিজের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ইমরান খান

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২০, ১১:৫৫

পাকিস্তানের রাজনীতিতে বর্তমানে ব্যাপকভাবে উচ্চারিত একটি নাম নরেন্দ্র মোদি। যদিও পাকিস্তানের জন্য এটি ইতিবাচক নয়।এই ঘটনাটির শুরু হয় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের একটি ভার্চুয়াল বৈঠককে কেন্দ্র করে।ওই বৈঠকে নওয়াজ শরীফ অভিযোগ করেন যে পাকিস্তানের কিছু সেনা কর্মকর্তা সরকারের কাজ হস্তক্ষেপ করছে। আর এর পরেই  ইমরান খান সরকার নওয়াজ শরীফের মুসলিম লীগের ৪০ নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহ মামলা করে । এই মামলায়  আসামি করা হয় আজাদ কাশ্মীরের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দারও। কারণ তিনিও নওয়াজ শরীফের ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেন।  কাশ্মীরি কোনো নির্বাচিত নেতার বিরুদ্ধে এটি ছিল সরকারের প্রথম রাষ্ট্রদোহ মামলা। আর এখানেই প্রথমবারের মতো পরাজিত হন ইমরান খান সরকার।    
 
 এদিকে করোনার কারণে বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক দলগুলো বড়ো সমাবেশ করতে পারবেন না ধারণা করছিল পাকিস্তান সরকার।  সরকারের বিরুদ্ধে যখন গুজরানওয়ালায় প্রথম র‍্যালির ডাক দেয় পাকিস্তানের বিরোধী দলীয় জোট পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট(পিডিএম) তখন নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয় যে সেখানে সন্ত্রাসী হামলার শঙ্কা রয়েছে। আর এ জন্যই তাদের এই আন্দোলন বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

তবে পাকিস্তান নিরাপত্তাবাহিনীর সতর্কবার্তা না শুনে সরকারের বিরুদ্ধে র‍্যালি করে পিডিএম। পাকিস্তানের ইমরান সরকারের কিছু কিছু মন্ত্রী পাকিস্তানের নতুন বিরোধী দলীয় জোটকে নরেন্দ্র মোদির  প্রক্সি দল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। 

এদিকে গুজরানওয়ালায় পাকিস্তানের বিরোধী দলীয় জোট পিডিএম'র র‍্যালিতে নেতা কর্মীরা অভিযোগ করেন যে জম্মু কাশ্মীর নরেন্দ্র মোদির কাছে পুরোপুরি বিক্রি করে দিয়েছেন ইমরান খান এবং কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানি জনগণকে বোকা বানাচ্ছেন তিনি।  

 এমন অভিযোগের পর পাকিস্তান সরকার নওয়াজ শরীফের ভাষণ  নিষিদ্ধ করে।  কিন্তু গুজরানওয়ালায় বেশিরভাগ মানুষই তার প্রতিবাদী ভাষণ শুনেছে যেখানে তিনি পাকিস্তানের সেনা প্রধান এবং গোয়েন্দা প্রধানের সরকারের ওপর হস্তক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

 পাকিস্তানে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে নওয়াজ শরীফ প্রথম পাঞ্জাব প্রদেশের নেতা যিনি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে খোলাখুলিভাবে অভিযোগ তুলেছেন। 
 ২০১১ সালে পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও দেশটির সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধে সরকারের ওপর হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছিলেন। পাকিস্তান 'এ পার্সোনাল হিস্টোরি' শীর্ষক বইটিতে ইমরান খন তখন পাকিস্তান সরকারের ওপর সেনাবাহিনীর অভিযোগের হস্তক্ষেপ করেছিলেন। এই একই অভিযোগ বর্তমানে করে যাচ্ছেন নওয়াজ শরীফ। 

 পাকিস্তান মুসলিম লীগ ডিসেম্বরের মধ্যে ইমরান খান সরকারে উৎখাতের জন্য সমর্থকদের প্রস্তুতি নেওয়া আহ্বান জানিয়েছে। দলটির অভিযোগ ইমরান খান সেনা প্রধান দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। 

 পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মুসলিম লীগের সংসদ নেতা খাজা মুহাম্মাদ আসিফ দাবি করছেন যে  শিগগিরই পাকিস্তানে আটক ভারতীয় গুপ্তচর কালভূষণ যাদবকে ছেড়ে দেওয়া হবে।  

 একই দিনে পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সাবেক স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক অভিযোগ করেছেন যে   পাকিস্তান সেনাবাহিনী আক্রমণ করতে পারে এ ভয়েই পাকিস্তান সরকার ভারতীয় পাইলট অভিনন্দনকে ছেড়ে দিয়েছিল।  আর এটি তিনি একটি গত বছর একটি বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী শাহ মাহমুদের মুখেই এ কথা শুনেছেন। 

 এদিকে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার  করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান লাহোরে বলেছেন যে তার দেশের বিরোধী দলীয় নেতারা চোর এবং বিশ্বাসঘাতক এবং তাদেরকে এ জন্য শিগগিরই জেলে যেতে হবে।  পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলো ইমরান খানের এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ইমরান খান নিজেই ২০১৫ সালে মোদির যারা  বন্ধু তারা বেইমান বলে একটি স্লোগান তৈরি করেছিল। ২০১৫ সালের লাহোরে নওয়াজ শরীফের সঙ্গে ভারতের  প্রধানমন্ত্রী আকস্মিক বৈঠকের পর ইমরান খান এই স্লোগান দিয়েছিলেন। ঠিক এই স্লোগানই এখন ইমরান খানের বিরুদ্ধে দিচ্ছেন। 

ইত্তেফাক/এআর