দেশজুড়ে বাড়ছে পাবনার ছানার কদর

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৫:৪০

দেশজুড়ে বেড়েছে পাবনা জেলার  ছানার কদর । ছোট থেকে শুরু করে অভিজাত দোকানের মিষ্টি তৈরিতে পাবনার ছানার জুড়ি নেই। প্রতিদিন এ জেলার পাঁচ উপজেলা ফরিদপুর, বেড়া, সাঁথিয়া, ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর  থেকে  দুইশ মণের বেশি ছানা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। 

জেলার প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের হিসাবে ওই পাঁচ উপজেলায়  ছোট-বড়ো প্রায় ২০ হাজার দুগ্ধ খামারে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। সরকারি মিল্ক ভিটা এবং বেসরকারি প্রাণ ডেইরি, ফার্ম ফ্রেস, আড়ং দুধ, আফতাব ডেইরি ,অ্যামোমিল্ক, পিউরামিল্ক, রংপুর ডেইরিসহ বেশ কিছু দুধ সংগ্রহকারী ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এখান থেকে দুধ সংগ্রহ করছে। এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করে থাকে। অবশিষ্ট দুধ খুচরা এবং আশপাশের জেলার মিষ্টির দোকানগুলোতে বিক্রি হয়।

স্থানীয় ঘোষেরা রোজ প্রায় ৬০ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করেন ছানা তৈরির জন্য। এ অঞ্চলে প্রায় একশ ছানার কারখানায় প্রতিদিন দুইশ মণ ছানা তৈরি হয়। কারিগরেরা জানান, এক মণ দুধে আট কেজির মতো ছানা পাওয়া যায়।

সাঁথিয়া উপজেলার সোনাতলা, আমাইকোলা, সরিষা, বেড়া উপজেলার সানিলা, পেঁচাকোলা, হাটুরিয়া, নাকালিয়া, ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা,গোপালনগর প্রভৃতি এলাকায় ছানা তৈরির অনেক ছোট-বড় কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে এক হাজারের বেশি লোকের। কারখানাগুলোতে উৎপাদিত ছানার মধ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ মণ ছানা প্লাস্টিকের বস্তায় করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। বাকি ৫০ থেকে ৬০ মণ ছানা স্থানীয় মিষ্টির দোকানগুলোতে সরবরাহ করা হয়। 

ছানা কারখানার মালিকেরা জানালেন, ছানার দাম দুধের দামের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিছুদিন আগেও প্রতি লিটার দুধের দাম ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। তখন প্রতি কেজি ভালো মানের ছানার দাম ছিল ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা। এখন দুধের দাম কিছুটা চড়া। ছানার দামও কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। তবে ননি (ক্রিম) তোলা দুধ থেকে তৈরি ছানা বিক্রি হয় ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। এই ছানা দিয়ে তৈরি মিষ্টির স্বাদ কম। কম দামের মিষ্টির জন্য ননি তোলা দুধের ছানারও  চাহিদা রয়েছে। তবে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের অভিজাত মিষ্টির দোকানগুলো উৎকৃষ্ট মানের ছানাই নিয়ে থাকে।

বেড়া পৌর এলাকার সানিলা মহল্লার নির্মল ঘোষের জানান, প্রতিদিন গড়ে ২৫ মণ ছানা তৈরি হয়। কারিগর আছেন ১২ জন।  ফরিদপুরের ডেমরার পরি ঘোষ বললেন, এখানে ননি তোলা ছানা হয় না। ঢাকায় তাদরে নির্ধারিত ক্রেতা আছে। উৎপাদনের পর পিকআপ ভ্যানে  ঢাকায় পাঠানো হয়। লকডাউন উঠে যাওয়ার পর ছানার চাহিদা আবার বেড়েছে ।

ইত্তেফাক/এসি