কোভিডের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলার জন্য নীতি প্রণয়নের তাগিদ

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২০, ২২:০৮

সানেমের আলোচনায় বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

শ্রমিকদের খাদ্য নিরাপত্তা এমনিতেও ঝুঁকির মধ্যে থাকে। কোভিড-১৯ তাদের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে শ্রমিকদের পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদির খরচ কমাতে হচ্ছে। যার প্রভাব প্রজন্মান্তরে পড়বে। এসব কিছুর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলার জন্য নীতি প্রণয়ন করা দরকার। শনিবার রাতে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও মাইক্রো ফাইন্যান্স অপরচুনিটিজ (এমএফও) এর যৌথ আয়োজনে ‘হোয়াটস গোয়িং অন? লেসনস ফ্রম দ্য গার্মেন্ট ওয়ার্কার ডায়েরিজ: কোভিড কনটেক্সট’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। সানেমের চেয়ারম্যান ড. বজলুল হক খন্দকার ওয়েবিনারটি পরিচালনা করেন। গার্মেন্ট ওয়ার্কার ডায়েরিজ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাপ্ত গবেষণা ফলাফলগুলো তুলে ধরেন আইএলও বাংলাদেশের টুমো পুটোনিন। তিনি উল্লেখ করেন, এপ্রিল মাসে গার্মেন্টস কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পরে মে মাসে আবার খুলে যায়। তবে মে মাসে জরিপে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের মধ্যে ২১ শতাংশ কর্মসংস্থান নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন বলে জানান। জুন, জুলাই ও আগস্টে বেকারত্ব কমলেও সেপ্টেম্বরে আবার বৃদ্ধি পেয়ে তা ৮ শতাংশ হয়। ফলে প্রশ্ন ওঠে যে, আগামী কয়েক মাসে গার্মেন্টস কারখানার কর্মসংস্থান কতটুকু বজায় থাকবে।

বিজিএমইএ-র সভাপতি ড. রুবানা বলেন, জুন জুলাই মাসে আগে যে অর্ডারগুলোর রপ্তানি হয়নি, সেগুলো রপ্তানি করা হয়েছে। ফলে কর্মঘণ্টা বেড়েছে এবং রপ্তানিও বেড়েছে। তবে, ভবিষ্যতের অবস্থার ওপর গার্মেন্টস খাতের কর্মসংস্থান নির্ভর করছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য বাইরের ক্রেতাদের আরো বেশি দাম দেওয়া উচিত এবং দায়িত্ব নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, গার্মেন্টস সেক্টরের সবার সুবিধার জন্যই মোবাইল আর্থিক সেবার খরচ কমানো দরকার। অনেক কারখানাতেই ন্যায্যমূল্যের দোকান আছে যেখান থেকে শ্রমিকরা তুলনামূলকভাবে কম দামে জিনিস কিনতে পারে। তবে, এমন আরো ন্যায্যমূল্যের দোকান দরকার।

মাইক্রো ফাইন্যান্স অপরচুনিটিজের নির্বাহী পরিচালক ড. গাই স্টুয়ার্ট তার উপস্থাপনায় গার্মেন্টস খাতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন প্রদানের ওপর আলোকপাত করেন। এতে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে প্রতি চার জনে এক জন শ্রমিককে ডিজিটালি বেতন প্রদান করা হতো। মে মাসে প্রতি চার জনে তিন জন শ্রমিককে ডিজিটালি বেতন প্রদান করা হয়, অর্থাত্ নতুন করে প্রায় ২০ লাখ শ্রমিককে এই পদ্ধতিতে বেতন দেওয়া হয়েছে এই দুই মাসে। কর্মসংস্থান এবং অসুস্থতা সংক্রান্ত ইস্যুগুলোকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। গবেষণায় আরো দেখা যায়, শ্রমিকরা যখন বাকিতে চাল কেনে তখন তাদের বেশি দাম দিতে হয়। এই ইস্যু মোকাবিলায় কী করা যায়, যাতে স্থানীয় দোকানদারদের জীবিকাও চ্যালেঞ্জের মুখে না পড়ে সেটা নিয়েও ভাবা দরকার বলে ড. স্টুয়ার্ট মন্তব্য করেন।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, গার্মেন্টস খাতের জন্য বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধার খুবই জরুরি। মোবাইল আর্থিক সেবা পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন নতুন আর্থিক সেবা উদ্ভাবন করতে পারে। তিনি শ্রমিকদের খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে তার উদ্বেগ তুলে ধরেন। ড. টুয়োমো পুটিয়েনিন বলেন, মহামারির ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়েছে, তবে নতুন সুযোগও তৈরি হয়েছে। অনিশ্চিত অর্থনৈতিক ধাক্কাগুলো মোকাবিলার জন্য স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা দাঁড় করানো দরকার। অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগলে মূল্যসংক্রান্ত ইস্যুগুলো চোখে পড়ে। ফলে, তথ্যের মান নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।