গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে উত্পাদন ১০ লাখ টন বাড়ানোর উদ্যোগ

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২০, ০০:২২

দেশে পেঁয়াজ নিয়ে সংকট চলছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, পেঁয়াজ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমরা পেঁয়াজে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে চাই না, পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাই। আর পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে আমাদের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উত্পাদন করতে হবে।

গতকাল রবিবার মন্ত্রণালয় থেকে মেহেরপুরের সদর উপজেলার কালিগাংনি গ্রামে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ’-এর মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও কৃষিসচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে পেঁয়াজের উত্পাদন ১০ লাখ টন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গ্রীষ্মকালীন উত্পাদন বাড়িয়ে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা পুরোপুরি মেটানো হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রদর্শনী প্লট থেকে নমুনা পেঁয়াজ সংগ্রহে দেখা যাচ্ছে, হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৯ টন গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উত্পাদন হয়েছে, যা খুবই আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক। তিনি বলেন, পেঁয়াজ অত্যন্ত পচনশীল পণ্য। কোল্ডস্টোরেজে মজুত করতে পারলে পেঁয়াজ নিয়ে সংকট কমত, তবে সেক্ষেত্রে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যেতে পারে। সে তুলনায় তুলনামূলকভাবে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চাষ সহজতর ও অধিক সম্ভাবনাময়। কৃষিমন্ত্রী এই উচ্চফলনশীল বারি-৫ জাতের পেঁয়াজের চাষ সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

স্বল্প সুদে পেঁয়াজচাষিদের কৃষিঋণ নিশ্চিত করতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে কমিটি করে দেওয়া হবে উল্লেখ করে ড. রাজ্জাক বলেন, পেঁয়াজ, রসুনসহ মসলাজাতীয় ফসলের চাষে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে কৃষকদের কৃষিঋণ দেওয়া হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলো, এই কৃষিঋণ প্রকৃত কৃষক পান না। স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব কৃষিঋণ নিয়ে অন্যান্য কাজে লাগান। এই কৃষিঋণ যাতে প্রকৃত কৃষক পান; পেঁয়াজ, রসুনসহ মসলাজাতীয় ফসলের চাষে কাজে লাগে, তা কঠোরভাবে এসব কমিটির মাধ্যমে মনিটর করা হবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণে এই অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে বারির মহাপরিচালক ড. মো. নাজিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।