আমরা দুই ভাই—তাসিন ও তাজিম। রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি। আমরা দুজনেই পড়ালেখার পাশাপাশি অভিনয় করি। কিন্তু করোনার কারণে স্কুলের সঙ্গে আমাদের শুটিংও বন্ধ হয়ে যায়। তাই এই পুরোটা সময়ই ঘরে কাটিয়েছি। আমরা দুজনেই এই সময়টাতে ঘরের কাজে আম্মুকে সাহায্য করেছি। আমাদের বারান্দায় অনেকগুলো গাছ আছে, সেগুলোর যত্ন নিয়েছি, পানি দিয়েছি। আমাদের ছোট্ট একটা অ্যাকুরিয়াম আছে। অ্যাকুরিয়ামের মাছগুলোকে খাবার দিয়েছি। তাদের সাথে খেলা করেছি। করোনার কারণে আমরা স্বাস্থ্যসচেতন হতে শিখেছি। আর আমরা আমাদের বাবাকে অনেক বেশি কাছে পেয়েছি। বাবার সাথে অনেক বেশি সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে। বাবার সাথে বন্ধুত্বটা অনেক বেড়েছে। সেইসাথে আত্মীয়-স্বজনদের সাথেও যোগাযোগ বেড়েছে। যাদের সাথে ব্যস্ততার কারণে খুব কম যোগাযোগ হতো, তাদের সাথেও অনেক বেশি সময় যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে। আমি তাসিন, ছবি আঁকতে ভালোবাসি। এই সময়ে অনেকগুলো ছবি এঁকেছি। ছবি এঁকে আমি ‘ইউনিসেফ সুপারস্টার’ অ্যাচিভমেন্ট করেছি। এর বাইরেও দৈনিক পত্রিকাসহ ছোটদের নিয়ে কাজ করা অনেক পাতায় আমার আঁকা ছবি প্রকাশিত হয়েছে। আমি তাজিম, মুভি দেখতে অনেক ভালোবাসি। করোনার সময়ে অনেকগুলো মুভি দেখেছি। আর অনলাইনে গেমিং করেও সময় কাটিয়েছি। এই সময়টাতে আমরা দুজনেই বন্ধুদের সাথে সবসময় যোগাযোগ রেখেছি অনলাইনে। আমাদের ক্লাসের বন্ধু, মিডিয়ার বন্ধু ও সুন্দরবন সিনেমায় আমাদের সাথে অভিনয় করা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে সময় পার করেছি। সব মিলিয়ে অনলাইনের ওপর একটু ঝোঁক বেড়ে গেছে। ওজন কমানোর চেষ্টা করছি দুজনে, কারণ আম্মু অনেক বকেন এটা নিয়ে। আর করোনাকালীন সরকারি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেই আমরা ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ সিনেমার শুটিংয়ে চলে যাই। ঘরবন্দি সময়ের অপূর্ণতা অনেকটাই ঘুচিয়ে দেয় এই মুভির শুটিং। এখন আমরা একটু একটু করে বাইরে বের হচ্ছি সচেতনতা অবলম্বন করে। আমাদের শুটিংয়ের ব্যস্ততাও বেড়েছে। তবুও স্কুল না খোলায় ভালো লাগছে না। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি আমাদের প্রিয় স্কুলে যাওয়ার জন্য। এই মহামারি যেন চিরতরে চলে যায়, আর আমরা যেন আবার স্বাভাবিকভাবে চলতে পারি।
