সৈয়দপুরে রেলের জলাধার ভরাট ও বেদখল

বাড়ছে জলাবদ্ধতাসহ অগ্নি দুর্ঘটনার ঝুঁকি

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২০, ২১:১৭

নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের জলাধারগুলোর অধিকাংশই অবৈধ দখলে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এসব জলাধারের অনেকটাই ভরাট করে ফেলায় বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ছে রেলওয়ের জরুরি স্থাপনাসহ কোয়ার্টারগুলো। তাছাড়া অগ্নি দুর্ঘটনায় অপর্যাপ্ত পানির উেসর কারণে ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধির আশঙ্কার কথাও জানান সংশ্লিষ্টরা। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, আসাম-বেঙ্গল রেলপথকে ঘিরে সৈয়দপুর রেলওয়ের গোড়াপত্তন হয়। এখানে রেলওয়ের মোট ভূমির পরিমাণ ৭৯৮ দশমিক ৯ একর। এর মধ্যে ১১০ একর জায়গা জুড়ে ১৮৭০ সালে স্থাপিত হয় দেশের সর্ববৃহত্ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। অবশিষ্ট ভূমিতে কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তৈরি করা হয় বাংলো, সাব-বাংলো, এক ও দুই কক্ষ বিশিষ্ট কোয়ার্টার। ইসলামবাগ, রসুলপুর, মিস্ত্রিপাড়া, সাহেবপাড়া, গোলাহাট, বাঁশবাড়ী, পুরাতন বাবুপাড়াসহ রেলের কোয়ার্টার এলাকায় ১৩টি জলাধার ছিল।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রেলওয়ে জলাধারের অনেকটাই অবৈধ দখলে চলে গেছে। ঐসব এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার হতো জলাধারগুলো। কিন্তু বর্তমানে সেগুলো দখল করে ভরাট করে ফেলছে স্থানীয় অসাধু একটি চক্র। এর কোনো কোনোটিতে গড়ে উঠেছে পাকা, আধা-পাকা স্থাপনা। তাছাড়া, চলতি বছরে অগ্নিকাণ্ডের একাধিক ঘটনা ঘটে। সময়মতো পানির ব্যবস্থা করতে না পারায় ১০টি রেল কোয়ার্টার পুড়ে যায়। শহরের মুন্সীপাড়া এলাকার রেল কোয়ার্টারের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার বাড়ির কাছেই রেলের একটি জলাধার ছিল। এটি ভরাট করে ফেলায় এখন সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উপচে বাড়িতে ঢুকে পড়ছে। এ ব্যাপারে সৈয়দপুর রেলওয়ে বিভাগের উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ সরকার বলেন, সৈয়দপুরে রেলওয়ের ১৩টিরও বেশি জলাধার রয়েছে। বেদখল জলাধারগুলো উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সৈয়দপুরে রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি বিভাগে দায়িত্বে থাকা পার্বতীপুর রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি বিভাগের কানুনগো রেজাউল হক বলেন, রেলওয়ের জলধারগুলো অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধারের জন্য সম্প্রতি আলোচনা করা হয়েছে। খুব শিগিগরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।