এবার আয়কর মেলা নয় রিটার্ন দাখিল কর অফিসে

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২০, ২১:৫১

আগামী ৩০ নভেম্বর জাতীয় আয়কর দিবস। ঐ দিনই আয়কর দেওয়ার শেষ দিন। এর পর আয়কর পরিশোধ করতে হলে করদাতাকে জরিমানা গুণতে হবে। ২০১০ সাল থেকে আয়কর মেলায় রিটার্ন দাখিলের সুযোগ তৈরি হওয়ার পর দিনে দিনে তা বেশ জনপ্রিয় হয় করদাতাদের কাছে। আয়কর মেলায় বিপুল সংখ্যক করদাতা তাদের আয়কর বিবরণী (রিটার্ন) জমা দিতেন। তবে এবার করোনা পরিস্থিতিতে আয়কর মেলা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর অফিসে আয়কর রিটার্ন নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে রাজধানীসহ দেশের কর অফিসগুলোতে আয়কর রিটার্ন নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। করদাতারা সেখানে গিয়ে তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারছেন। কর অফিসে যাতে মেলার মতো সহজে কর পরিশোধ করতে পারেন, সেজন্য কর অফিসগুলোকে আট দফা নির্দেশনা পাঠিয়েছে এনবিআর।

তবে করদাতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আয়কর মেলার মতো পরিবেশ নেই কর অফিসে। এক ছাদের নিচে সব ধরনের সুবিধাও তারা পাচ্ছেন না, যা আয়কর মেলায় পাওয়া যেত। এছাড়া এখনো কর অফিসে করদাতারা তেমন আসছেন না। আগামী ১৫ নভেম্বরের পর থেকে কর রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য করদাতাদের অফিসমুখী হওয়ার হার বাড়বে।

এদিকে রিটার্ন দখিল সহজ করার জন্য রাজধানীসহ দেশের সব কর অফিসকে নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরের আয়কর বিভাগের দ্বিতীয় সচিব সাইয়ীদ ফাহদ আল করিম স্বাক্ষরিত ঐ নির্দেশনা ইতিমধ্যে দেশের সব কর অফিসে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায় ঐ নির্দেশনায় বলা হয়, আয়কর রিটার্ন দাখিলের পর তাত্ক্ষণিকভাবে করদাতাকে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র প্রদান করতে হবে। কর অফিসের তথ্যসেবা কেন্দ্র কার্যকর করতে হবে। এর মাধ্যমে করদাতাকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে। ঐ তথ্যসেবা কেন্দ্রে করদাতাদের জন্য প্রয়োজনীয় আয়কর রিটার্ন ফরম, চালান ফরম, সিটিজেন চার্টার সংরক্ষণ করতে হবে। অফিস সময়ে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করতে হবে। তথ্যসেবা কেন্দ্রে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সব কর অফিসের নিজস্ব ওয়েবসাইট কার্যকর ও তথ্যসহ হালনাগাদ করা, ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের অধিক্ষেত্র, সার্কেলসহ কমিশনার অফিসের অবস্থান, ঠিকানা, কর্মকর্তাদের নাম ও টেলিফোন নম্বর, ইমেইল সংযুক্ত করতে হবে। এছাড়া কর অঞ্চলের সব করদাতাকে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা (এসএমএস), ইমেইল ও অন্যান্য মাধ্যমে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। এছাড়া করসেবা প্রদানে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সাল থেকে আয়কর মেলা শুরু হওয়ার পর প্রতি বছরই মেলায় সেবার পরিধি বাড়তে থাকে। ফলে সাধারণ করদাতারা মেলায় এসে তাদের রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মূলত হয়রানিমুক্ত হওয়ায় মেলায় এসে মানুষ আয়কর মেলামুখী হন।

সর্বশেষ গত বছর আয়কর মেলায় দেশব্যাপী ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫ জন করদাতা তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। মেলায় আয়কর আদায় হয়েছে ২ হাজার ৬১৩ কোটি ৪ টাকা। আর ২০১৮ সালে মেলায় রিটার্ন দাখিল হয়েছিল ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৩। সব মিলিয়ে গতবার মেলায় এসে সেবা নিয়েছিলেন ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ৩৮৭ জন। দেশে বর্তমানে টিআইএনধারীর সংখ্যা ৪০ লাখের ওপরে। এর মধ্যে গতবার রিটার্ন দাখিল হয়েছিল প্রায় ২২ লাখ।