টেকসই পরিকল্পনায় চাই ভূমির বিন্যাস

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২০, ২১:৫৮

ভূমির বিন্যাস নিশ্চিত করার মাধ্যমে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বাসযোগ্যতার সঙ্গে জনঘনত্বের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার উন্নয়ন কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। দরকার এলাকাভিত্তিক ভবনের উচ্চতা নির্ধারণ করা। ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় আবাসিক এলাকাগুলো উল্লেখ করা হলেও সেখানে কাদের বাসস্থান বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং কারা বাসস্থান প্রদান করবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। শহরে বাসস্থানের চাহিদার পরিমাণ কত, তারও কোনো উল্লেখ ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় নেই। নিম্ন আয়ের মানুষের বাসস্থানের চাহিদা পূরণ করতে কতগুলো আবাসন তৈরি করতে হবে এবং কোন এলাকায় তারা বসবাস করবে তা পরিকল্পনায় উল্লেখ করতে হবে। গতকাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের উদ্যোগে ‘ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা নিয়ে বিষয়ভিত্তিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। এছাড়া আলোচক ছিলেন নগর গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি ও নগরবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক প্রকৌশলী ড. শামসুল হক, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সংস্থার (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক পরিকল্পনাবিদ ড. শাকিল আকতার, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা প্রকল্পের পরিচালক পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম নগরের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, ভূমির বিন্যাস নিশ্চিত করার মাধ্যমে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রাকৃতিক জলাশয়, খাল, পুকুর সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।  তিনি বলেন, ঢাকা শহরকে বাঁচাতে জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব কমানোর জন্য অন্য শহরকে বিবেচনায় রেখে জাতীয় পরিকল্পনা করতে হবে।

পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গণশুনানি থেকে বিভিন্ন রকম আবেদন, ক্ষেত্রবিশেষে বিভিন্ন রকম মতামত সংগ্রহ করছি এবং পরবর্তী সময়ে সবার মতামতের সারাংশ তৈরি করা হবে। তাকসিম এ খান বলেন, বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় ঢাকা ওয়াসার ওয়াটার মাস্টার প্ল্যান বিবেচনা করা না হলে পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে। তিনি জলাধার ও উন্মুক্ত স্থান নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় বন্যাপ্রবণ এলাকা নির্দিষ্ট করার তাগিদ দেন। ড. শাকিল আকতার বলেন, মিশ্র ব্যবহার শর্তসাপেক্ষে প্রয়োগ করা যাবে বলা হলেও শর্তগুলো কোথাও উল্লেখ নেই। ড. শামসুল হক বলেন, ঢাকাকে বসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘ মেয়াদে ভূমি ব্যবহার, পরিবহন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।