চট্টগ্রামে নিখোঁজ সাংবাদিক গোলাম সরওয়ারকে উদ্ধার করা হলেও কে বা কারা তাকে অপহরণ করেছিল সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না পুলিশ। চট্টগ্রাম মহানগরের বাইরের একটি গ্রুপ এই ঘটনায় জড়িত ছিল বলে পুলিশ প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। তবে এর বাইরে আরো কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। এদিকে, সরওয়ারের বন্ধু ও সহকর্মীরা মনে করছেন, নগরীর আশকার দীঘিরপাড় এলাকায় একটি বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে ‘প্রভাবশালী’ মহলের রোষানলে পড়েন সরওয়ার। ঐ চক্রটি পরিকল্পিতভাবে সরওয়ারকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে নিখোঁজ হওয়ার চার দিনের মাথায় গত রবিবার রাতে সরওয়ারকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার হাজীপাড়া ব্রিজের নিচে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় তার পরনে ছিল শুধু গেঞ্জি ও অন্তর্বাস। অসুস্থ অবস্থায় তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন। গতকাল সোমবার তাকে দেখতে গেলে তিনি তার বুক, হাত, কাঁধসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখান। তাকে হাতুড়ি দিয়ে দফায় দফায় মারা হয়েছে বলেও দাবি করেন সরওয়ার। এ সময় তিনি ভালো করে কথাও বলতে পারছিলেন না। সরওয়ার অনেকটা আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন।
এদিকে, সরওয়ারকে উদ্ধারের বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি পুলিশ। তবে সিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তারা আশাবাদী যে অপরাধীরা খুব দ্রুত ধরা পড়বে।
গণতদন্ত কমিটি গঠন
এদিকে, গোলাম সরওয়ারকে অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। গতকাল চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) কার্যালয়ে সংগঠনের নির্বাহী কমিটির সভায় নেতারা এ হুঁশিয়ারি দেন। সভায় সাংবাদিক গোলাম সরওয়ারকে অপহরণের ঘটনায় একটি গণতদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় সিইউজে। এছাড়া সরওয়ারকে আইনি সহায়তা দিতে তিন সদস্যের আইনজীবী প্যানেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার সিএমপি কমিশনারকে স্মারকলিপি দেবে সিইউজে। পাশাপাশি জাতীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে শিগিগরই সমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাহী কমিটি।
