মালয়েশিয়া প্রবাসীদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২০, ০০:৩১

ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং মালয়েশিয়ায় ফেরার দাবিতে কয়েক হাজার প্রবাসী গতকাল সোমবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করেন। রবিবার মধ্যরাত থেকেই তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন। দুপুরে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তারা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। ঘেরাওয়ের কারণে প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থানরত প্রবাসীরা জানান, করোনা মহামারির আগে ছুটিতে দেশে ফিরে আসেন তারা। কিন্তু ফ্লাইট বন্ধ থাকায় আর ফিরে যেতে পারেননি। তাদের অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে বেশির ভাগ প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।

পরে আন্দোলনরত প্রবাসীদের পাঁচ জনের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (সাউথ-ইস্ট এশিয়া) এম জে এইচ জাবেদ। তিনি প্রতিনিধিদলকে জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে মালয়েশিয়া সরকার ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশিকে সেদেশে ঢুকতে দেবে না। সে অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবাসীদের অপেক্ষা করতে বলেন তিনি।  মালয়েশিয়া সরকার করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে         দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে এই প্রবাসীদের ফিরে যেতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

এরপর পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের পুনরায় ভিসা দেওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়া দেশে দীর্ঘদিন কাজ না থাকার  কারণে যারা অর্থকষ্টে রয়েছেন, তাদের আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি নিয়েও তিনি কাজ করবেন বলে জানান। তার আশ্বাসে অবস্থানরত প্রবাসীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

 

করোনা মহামারির কারণে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মালয়েশিয়ায় কর্মরত বেশ কিছু বাংলাদেশি শ্রমিক করোনা শুরু হওয়ার আগে ছুটিতে বাংলাদেশে আসে। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেদেশে ফেরত যেতে পারেনি। ইতিমধ্যে বেশ কিছু শ্রমিকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

মালয়েশিয়াতে ফেরত প্রত্যাশী শ্রমিকদের একটি অংশ গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সমবেত হয় এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের কাছে তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র সচিব এ সময় বিদেশি শ্রমিক প্রবেশের ব্যাপারে মালয়েশিয়ার চলমান নিষেধাজ্ঞার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রমিকদের প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা চলছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি এবং মালয়েশিয়ায় নতুন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হলে ইতিপূর্বে দেশে আসা শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাওয়ার বিষয়টি মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার অনুরোধের ভিত্তিতে শ্রমিকদের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও মালয়েশিয়ায় তাদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে বলে সেদেশের কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে ।