যশোরে অপহূত এনজিও কর্মকর্তা উদ্ধার

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২০, ২২:৪২

যশোরের অভয়নগরে ইকবাল জাহিদ নামে এক এনজিও কর্মকর্তাকে অপহরণের ১১ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত নারীসহ ছয় অপহরণকারীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভয়নগর থানায় মামলা হয়েছে। ইকবাল জাহিদ উপজেলার একতারপুর গ্রামের পীর মোহাম্মদ খানের ছেলে। তিনি যশোরের আল আরাফা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি অভয়নগর উপজেলা শাখার মাঠ কর্মকর্তা। আটককৃতরা হলেন যশোর শহরের কাঠালতলা রায়পাড়ার এম এম শামসুর রহমানের ছেলে এম এম রুবেল হাসান বাবু, অভয়নগরের গুয়াখোলার মানিক মোল্যার ছেলে আকাশ মোল্যা, বুইকরা গ্রামের মুজিবর হাওলাদারের ছেলে রবিউল ইসলাম, পাঁচকবর এলাকার গণি সরদারের ছেলে আবদুল মালেক, শুভরাড়া ইউনিয়নের ইছামতী গ্রামের মাজেদ খানের ছেলে ইমরুল খান ও একই গ্রামের জাহিদ খানের মেয়ে কনা বেগম।          পুলিশ জানায়, ইকবাল জাহিদ রবিবার সকালে উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের ইছামতী গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় ঋণদান কাজে কনা বেগমের বাড়িতে যান। একপর্যায়ে তারা ইকবাল জাহিদকে আটকে রাখে এবং দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ইকবাল তার প্রতিষ্ঠানের জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এরশাদুলকে বিষয়টি অবহিত করলে বিকালে তাদের কাছে এরশাদুল ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পৌঁছে দেয়। কিন্তু অপহরণকারীরা আরো ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় ঐদিন সন্ধ্যায় ইকবালকে মাইক্রোবাসযোগে ইছামতী গ্রাম থেকে নওয়াপাড়া বাজারে এনে মারপিট শুরু করে। রাতে তাকে পাঁচকবর এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রেখে ইকবালের স্ত্রী সালমাকে ফোন করে অপহরণকারীরা। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় শুরু হয় জাহিদের ওপর নির্যাতন। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এসময় অপহরণকারীরা ইকবালকে যশোরের কাঠালতলায় নিয়ে যায়। সেখানে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ১০ জন অপহরণকারী নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে ইকবালকে নিয়ে অভয়নগরের সরখোলা গ্রামে আসে। অপহরণকারীরা বাকি টাকার জন্য অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সালমাকে আসতে বলে।

সালমা বিষয়টি অভয়নগর থানায় জানায়। বাকি টাকা পৌঁছে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইকবালের স্ত্রীর সঙ্গে সাদা পোশাকে পুলিশ অবস্থান করে। রাত ৩টার দিকে অপহরণকারী দলের এক সদস্য রবিউল ইসলাম মুক্তিপণের টাকা নিতে আসলে পুলিশ তাকে আটক করে।