বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করে নব্য পাকিস্তানে রূপান্তরই ছিল জেল হত্যাকাণ্ডের লক্ষ্য:আমু

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২০, ০০:২৫

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের  সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় এটা কোনো ব্যক্তিগত হত্যাকাণ্ড নয়, বাঙালিকে নেতৃত্বশূন্য করে স্বাধীন বাংলাদেশকে আবার নব্য পাকিস্তানে রূপান্তর করাই ছিল স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতক চক্রের মূল লক্ষ্য। জেল হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের জাতীয় চার নেতার সঙ্গে একই  কারাগারে থাকা আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা এক ভিডিও বার্তায় স্মৃতিচারণে এসব কথা  বলেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, ঐদিন রাত ২টা ২০ মিনিটে  প্রথম ব্রাশ ফায়ারের শব্দ শুনতে পান। পরবর্তীতে ২০ মিনিট পর আবারও ব্রাশ ফায়ার । ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর কাতরানোর শব্দ শুনে জাতীয় সব নেতার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার  জন্য ঘাতকরা আবারও ব্রাশ ফায়ার করে এবং বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তা নিশ্চিত করে। জেলের ভেতরে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড বিরল ঘটনা বলে মন্তব্য করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক চক্র যে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়, তারই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তার নির্দেশিত পথে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে জাতীয় চার নেতা যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন সেই অবদান কোনোদিন ভোলার নয়।

আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে বাংলাদেশকে যারা নব্য পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র করেছিল সেই শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল্যবোধকে আবার প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার যোগ্য নেতৃত্বেই সব সংকট উত্তরণ করে উন্নয়ন আর অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। ভিডিও বার্তায় তিনি জাতীয় চার নেতার স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।