বড়লেখা পৌরসভার অভ্যন্তরের ছয়টি সড়কের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। সড়কগুলোর ইট-বালু, ঢালাই ও বিটুমিন উঠে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ আর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সড়ক প্রায় ১৫ বছর ধরে সংস্কার হয়নি। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরসভাবাসীকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক সড়ক থেকে বড়বাড়ী পর্যন্ত আরসিসি ঢালাই করা প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও বৃষ্টির পানি জমে আছে। প্রায় ১৫ বছরেও এ সড়কের কোনো কাজ হয়নি। ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অভ্যন্তরের গাজিটেকা হেকিম বাড়ি থেকে বাসতলা-আব্দুল জব্বারের বাড়ি পর্যন্ত দুইটি সড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার বেহাল অবস্থা। প্রায় পাঁচ বছর ধরে এ অবস্থা সড়কগুলোর।
ইট-বালু, ঢালাই ও বিটুমিন উঠে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ আর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একই অবস্থা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গোপাল দের বাড়ি থেকে সদর ইউনিয়নের সীমানা পর্যন্ত ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক। এ সড়কটি গত ১৫ বছরেও সংস্কার করা হয়নি। বড়লেখা-ডিমাই সড়ক থেকে বাঘমারা পর্যন্ত পাকা সড়কের পিচঢালাই উঠে গেছে। এছাড়া মুছেগুল মজনু মিয়ার বাড়ি থেকে খছরুজ্জামানের বাড়ি পর্যন্ত ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়কের বেহাল দশা। পৌরসভা সৃষ্টির পর থেকে এ অবস্থা। এছাড়া পৌরসভার অন্য ওয়ার্ডের কাঁচা সড়কগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ। বর্ষায় মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাসমিন বেগম বলেন, ‘গত ছয় বছর থেকে এই এলাকায় ভাড়া থাকি। সড়কটির অবস্থা খুব খারাপ। সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। এখানে আসার পর জেনেছি ১৫ বছর ধরে সড়ক ভাঙা। সড়ক দিয়ে চলাচলে খুব কষ্ট হয়। একটু বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে যায়।’
১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাবর হোসেন শিপলু বলেন, ‘আমাদের এলাকার সড়কটি পাঁচ-ছয় বছর ধরে খারাপ। গত পৌরসভা নির্বাচনের আগেও খারাপ ছিল। আরেক নির্বাচন চলে আসছে কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ভাঙা সড়কে কত কষ্ট হয়, যারা চলাচল করে তারাই বুঝে।’
এ ব্যাপারে বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার অনুকূলে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এ প্রকল্পে তিন ধাপে কাজ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের জুন মাসে। কিন্তু প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা ও করোনা পরিস্থিতির কারণে কাজ সম্পন্নে বিলম্ব হচ্ছে।
এরই মধ্যে দুই ধাপের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম ধাপের কাজ শেষ পর্যায়ে। ২য় ধাপের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। ৩য় ধাপের টেন্ডারের জন্য প্রক্রিয়াধীন। কয়েকটি সড়কের অবস্থা খারাপ আছে। করোনা সংকট না থাকলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভার অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ সব সড়ক মেরামত হয়ে যেত। বেশি খারাপ সড়কগুলোর মধ্যে দুইটির টেন্ডার হয়েছে। ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য চারটি সড়ক তৃতীয় ধাপে কাজ হবে।’
ইত্তেফাক/বিএএফ
