জুয়েল হত্যা মামলা: দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে ৪ জন, মোট আটক ২৩

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২০, ২১:২৫

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে রংপুরের আবু ইউনুছ মো. সহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা ও মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় দায়েরকৃত তিন মামলার দ্বিতীয় ধাপে মসজিদের খাদেমসহ চারজনের প্রত্যেককে তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন লালমনিরহাট আমলি আদালত-৩ এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌসী বেগম। 

যাদের রিমান্ডে নেওয়া হলো তারা হলেন, পাটগ্রাম ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামের বাসিন্দা বুড়িমারী কেন্দ্রীয় মসজিদের খাদেম জোবেদ আলী (৬১), বুড়িমারী ইউনিয়নের নামাজিটারী এলাকার আনোয়ার হোসেন (৫৫), কামারেরহাট গ্রামের মেহেদী হাসান রাজু (১৯) ও উফারমারা এলাকার রবিউল ইসলাম ওরফে পিচ্চি রবিউল (৪০)। 

এর আগে গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রথম দফায় একই আদালত সর্ব প্রথম গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ অভিযুক্ত- বুড়িমারী এলাকার মাসুম আলী, আশরাফুল আলম শফিকুল ইসলাম, বায়েজিদ বোস্তামী ও রফিককে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অপরদিকে এ ঘটনায় বুধবার মধ্যরাতে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- বুড়িমারী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার বলোমুদ্দিনের ছেলে আবু নাইম (৩৫) ও আমবাড়ী এলাকার মৃত সিদ্দিক আহম্মেদের ছেলে আব্দুল গনি (৪০)। পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। 

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের  (ডিবি) ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক জানান, আলোচিত এ ঘটনার তিন মামলায় মোট ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে চতুর্থ দফায় গ্রেফতার পাঁচ আসামিকে লালমনিরহাট আমলি আদালত- ৩ এ হাজির করে পুলিশ। আসামিদের মধ্যে রবিউল ইসলাম ওরফে পিচ্চি রবিউলের পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। এর আগে গত সোমবার (২ নভেম্বর) দ্বিতীয় দফায় খাদেমসহ গ্রেফতার পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের পাঁচদিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মাহমুদুন্নবী। বৃহস্পতিবার আবেদনের শুনানি শেষে মসজিদের খাদেম জোবেদ আলীসহ চারজনের প্রত্যেককে তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। 

আরও পড়ুন: কোরআন অবমাননার ছুতোয় জুয়েল হত্যায় উত্তাল রংপুর

গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে সহিদুন্নবী জুয়েলকে হত্যার অভিযোগে নিহতের চাচাত ভাই সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) একটি মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে পাটগ্রাম থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান আলী বাদি হয়ে একটি এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত একটিসহ মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। আলোচিত এ তিন মামলা জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্ত ভার দেওয়া হয়েছে।   

এদিকে তদন্ত টিমের প্রধান লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট টিএমএ মমিন বলেন, আমাদের তিন কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। কিছু কাজ বাকি থাকার কারণে আরও চার কর্ম দিবস সময় নেওয়া হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এসি