এ বছর মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে শুরু থেকে কঠোর ভূমিকায় ছিলেন পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যরা। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপির নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় এ বছর অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ২৪ ঘন্টা ইলিশ ধরা, ক্রয়, বিক্রয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
এছাড়াও জরিমানার হার কমিয়ে সাজার হার বাড়িয়ে অভিযানকে আরো গতিশীল রাখা হয়। জলে-স্থলে ২৪ ঘণ্টা অফিসার ফোর্স ও চেক পোস্ট নির্ধারণ করে নিয়মিতকরন করে জোরদার রাখা হয়।
মা ইলিশ রক্ষা অভিযান প্রশাসন ও পুলিশের এ কঠোরতার কারনে এলাকার সাধারণ মানুষও মাছ কিনতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। এলাকার লোকজন প্রশাসন ও পুলিশের এ কাজে ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা এও বলেন এই ওসি কারো কথা শোনেনা, ধরলে রক্ষা নেই। তিনি নীতিতে অটল।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা সকল নদীতে সরকারি ভাবে মা ইলিশ রক্ষায় গত ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এরপর কিছু অসাধু জেলে রাতের আধারে মা ইলিশ ধরা অব্যাহত রাখে। এ সময় জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মৎস্য অফিস, র্যাব ও বিমান বাহিনী আকাশে হেলিকপ্টার নিয়ে টহল সমন্বিত অভিযানে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে রাত দিন অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ১১৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। ৪২৫ জন জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান, ৪ কোটি ৩৭ লাখ বিশ হাজার টাকা মূল্যের ১৭ লাখ ৯১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। ৫০০টি মামলা হয়েছে। ৪৭০ কেজি ইলিশ ও অন্যান্য ২০ কেজি মাছ উদ্ধার করা হয়।
আরো পড়ুন: আওয়ামী লীগ নেতার চাঁদাবাজি ও বাড়ি দখল, মিললো অস্ত্র-ইয়াবা
জরিমানা আদায় করা হয় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অভিযানকালে উদ্ধার হওয়া ইলিশ মাছ বিভিন্ন এতিমখানায় ও মাদ্রাসায় দিয়ে দেয়া হয়। ২২ দিন মাছ না ধরার জন্য জেলার ৪ হাজার জেলে পরিবারকে ৮০ মেট্রিক টন চাল দেয়া হয়।
অভিযানে অংশ নেন জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা ইয়াসমিন, শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম. রকিবুল হাসান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ, আরডিসি মাহবুবুল হক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রমথ রঞ্জন ঘটক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল মামুন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবির হোসেন, শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ বলেন, স্মরণকালের মধ্যে মাদারীপুরে এ বছর মা ইলিশ রক্ষার জন্য কঠোর অভিযান পরিচালিত হয়েছে। প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের তিনটি করে টিম রাত-দিন অভিযানে অংশ নেয়। জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন মহোদয়ের আন্তরিকতায় এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় আমরা মৎস্য অফিস, বিমান বাহিনীর হেলিক্যাপ্টর, র্যাব, শিবচর থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশ এর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খুব ভালো অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আমাদের কঠোর নজরদারির কারণে এ বছর জেলেরা অনেক কম মাছ ধরতে পেরেছে। এছাড়া হাট-বাজারগুলোতে কোন ইলিশ মাছ বিক্রি করতে দেখা যায়নি। সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা একটি সফল অভিযান শেষ করেছি।
ইত্তেফাক/এএএম
