চার বছরের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের পর বিদায় নিতে হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তবে লোভনীয় এই পদ ছেড়ে গেলেও ট্রাম্পের জন্য সরকারি খাতে খরচ খুব হবে না। বেশ মোটা অংকের পেনশন তো পাবেনই আজীবন। পাবেন আমেরিকার অভিজাত এলাকায় অফিস চালানোর বিশাল জায়গা। তার অফিসে বহু কর্মীসহ যাবতীয় খরচ বহন করবে সরকার।
এছাড়াও পাবেন ব্যাপক ঘোরাঘুরি আর টেলিফোন খরচের অর্থ। আর আজীবন পাবেন তার ও তার পরিবারের জন্য সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা রক্ষার সুবিধা। এর সব খরচই বহন করবে আমজনতা, তাদের জমা দেওয়া আয়করের মাধ্যমে। কেবল ট্রাম্প নন, তাকে নিয়ে যে ৪৫ মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনো পর্যন্ত অবসরে গেছেন আজীবন তাদের সকলের জন্যই সরকারি খাতে পেনশনসহ ওই সব ক্ষেত্রে বিশাল অংকের অর্থবরাদ্দ থাকে প্রত্যেক বছরের বাজেটে। এর শুরুটা হয়েছিল আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ১৭৮৯ সালে। সাবেক প্রেসিডেন্টরা বেতন পান প্রেসিডেন্টের ক্যাবিনেটের সদস্যদের এখনকার মাইনের মতো। ২০১৭ সালে সেই পরিমাণ ছিল প্রতি বছরে ২ লাখ ৭ হাজার ৮০০ ডলার (দুই কোটি ২৮ লাখ ৭০ হাজারের বেশি)।
২০১৮ সালে কংগ্রেসে যে বাজেট প্রস্তাব জমা পড়েছিল তাকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অফিসের জায়গার জন্য খরচ হয়েছিল ৫ লাখ ৩৬ হাজার ডলার। আরেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ভ্রমণের জন্য খরচ বরাদ্দ হয়েছিল ৬৮ হাজার ডলার। শুধু তাই নয় সাবেক প্রেসিডেন্টের স্বামী বা স্ত্রীদের মোটা অংকের পেনশন পাওয়ারও অধিকার দেওয়া হয়েছে সংবিধানে। সেটাও খুব কম নয়। বছরে ২০ হাজার ডলার, আজীবন। সঙ্গে তারাও পান ঘোরাঘুরি, টেলিফোন ও যোগাযোগরক্ষার যাবতীয় খরচ।
২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ও তার পরিবারের নিরাপত্তারক্ষার জন্য বরাদ্দ হয়েছিল ২ লাখ ডলারেরও বেশি। আর সেই খরচটা সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ক্ষেত্রে ছিল ৮ লাখ ডলার। এসব ছাড়াও সাবেক প্রেসিডেন্টরা আত্মজীবনী লিখে, কোনো খ্যাতিমান করপোরেট সংস্থার পরিচালন বোর্ডের সদস্য হয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে আমন্ত্রনি বক্তৃতা দিয়ে প্রচুর ডলার উপার্জন করতে পারেন। অবসর নেওয়ার পর শুধু বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা দিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন আয় করেছিলেন সাড়ে ছয় কোটি ডলার। তার আত্মজীবনী লিখে উপার্জন করেছেন দেড় কোটি ডলার। এসব সুবিধা পাবেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
