কুমিল্লার বুড়িচং নিমসার জুনাব আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মামুন মিয়া মজুমদারকে ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করেছে রাখে শিক্ষার্থীরা। অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ সোমবার (৯ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে অধ্যক্ষকে তার কক্ষে তালাবদ্ধ করে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে প্লে-কার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করে অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাকে দুপুর ২টার দিকে অধ্যক্ষ অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের হন।
কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ফয়েজ জানায়, করোনার সংকটকালেও অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মামুন মিয়া মজুমদার শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বাড়তি ফি আদায় করছেন। প্রথম বর্ষের ছাত্র আলাউদ্দিন জানায়, ভর্তির সময় ১ হাজার টাকা করে নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরে এখন আবারো ভর্তি ফিসহ উন্নয়নের কথা বলে বাড়তি ২৫০০ টাকা আদায় করছে, যা অযৌক্তিক। প্রথম বর্ষের ছাত্র নাইম ইসলাম জানায়, আমাদেরকে চাপ দিয়ে বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে। আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অসহায়। একই বর্ষের ছাত্র মেহেদী হাসান জানায়, কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে ৭ শতাধিক শিক্ষার্থী। কলেজের মনোগ্রামযুক্ত ব্যাজের জন্য ১০০ টাকা, ভর্তি ফরমের জন্য ১০০ টাকা, উন্নয়ন ফি এর নামে ১ হাজার টাকা এবং মসজিদ উন্নয়ন ফি এর নামেও টাকা আদায় করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজের অভিভাবক সদস্য আনিসুর রহমান, গোলাম মোস্তফা জানান, ‘অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি। কিন্তু কলেজের গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য হিসেবে এমন সিদ্ধান্তের বিষয় আমাদের আমরা জানি না। এমন পরিস্থিতির জন্য অধ্যক্ষ মামুন সাহেব দায়ী।’
কলেজের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘পুরাতন রেজুলেশন অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি চলছে। করোনার কারণে পুরো টাকা দিতে নিষেধ করা হয়েছে। এখন যেহেতু করোনার প্রকোপ কমে আসছে তাই বাকি টাকা (অতিরিক্ত ভর্তি ফি) দেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছে। এর বেশি কিছু না।’
কলেজ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মামুন মিয়া মজুমদার বলেন, ‘কলেজের সাবেক ও বহিরাগত ছাত্ররা আমাকে অবরুদ্ধ করে। আমি কলেজ গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করতে পারি না। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’ বুড়িচং থানার উপ-পরিদর্শক ডালিম বলেন, ‘কলেজে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে এমন খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছি এবং শিক্ষার্থীদের শান্ত করা হয়েছে।’
কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘খবর পেয়ে কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি। নিয়ম বহির্ভূত কোন ফি আদায় করা হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
ইত্তেফাক/এমআর
