মির্জাপুরে স্কুলের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২০, ২৩:১২

সরকারি স্কুলের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ ও যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের এক প্রভাবশালী ব্যক্তিসহ কতিপয় ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে। 

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১০ নং গোড়াই ইউনিয়নের ১২১ নং সৈয়দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন গোড়াই মমিননগর সৈয়দপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ঘটনাস্থলে গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকার লোকজন ঘটনার সত্যতা তুলে ধরেন।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আঞ্চলিক রোড গোড়াই-সখিপুর –ঢাকা রোড সংলগ্ন ১২১ নং সৈয়দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, গোড়াই ইউনিয়নের সৈয়দপুর মৌজার ২৪৩৩ নং দাগের ৯০৭ খতিয়ানের মধ্যে ৭০ শতাংশ জমি রয়েছে বিদ্যালয়ের নামে। এই জমিতে বিদ্যালয় থেকে নিয়মিত সরকারি কর পরিশোধ করা হয়। সৈয়দপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ খানের ছেলে মো. আজম খান(৫৫) বিদ্যালয়ের ২৫ শতাংশ এবং মো. আনোয়ার মাস্টার নামে দুই ব্যক্তিসহ কতিপয় ব্যক্তি প্রভাব বিস্তার করে পাকা ভবন নির্মাণ করেছে। 

বিদ্যালয়ের জমি ও রাস্তা উদ্ধারের জন্য এলাকাবাসির পক্ষে ইউপি সদস্য ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আদিল খান বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে ছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী নুর মোহাম্মদ ও স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মীরা প্রতিবাদ জানালে ভূমিদস্যু চক্রটি তাদের নামে বানোয়াট কয়েকটি অভিযোগ দিয়ে হয়রানী করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নুর মোহাম্মদ ও মোশারফসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, আজম খান, আনোয়ার হোসেন মাস্টারসহ কতিপয় প্রভাবশালী স্কুলের জমিসহ সরকারী রাস্তা দখল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাদের নামে মিথ্যা মামলায় হয়রানী করেন।

এ ব্যাপারে মো. আজম খান ও মো. আনোয়ার হোসেন মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, সৈয়দপুর মৌজায় ২৪৩৫ নং  ও ২৪৪৮ নং দাগের মধ্যে মো. মজিদ খান,  মোকছেদ আলী, কেশব সরকার ও গয়ানাথ সরকার ৫০ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে দান করে দিয়ে সৈয়দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিদ্যালয়ের পাশে তাদের ৮৫ শতাংশ জমি রয়েছে। তারা দাবী করেন, আমরা বিদ্যালয়ের কোন জমি জবর দখল করিনি। আজম খান বলেন আমার নিজের রাস্তা ভাড়া দিয়েছিলাম এ নিয়ে এলাকার লোকজনের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। আমি রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জয়দেব সরকার বলেন, এটা বিদ্যালয়ের জমি। এলাকার কিছু লোকজন বিভিন্ন ভাবে দলিল তৈরি করে বিদ্যালয়ের জমি জবর দখলের চেষ্টা করছেন। বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার ও রাস্তা দখল মুক্ত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

মির্জাপুর থানার পুলিশ অফিসার (এসআই) মো. আলাউদ্দিন বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তার উপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসআই