ঘরের হাটে নান্দনিকতা

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৩৭

নিত্যপণ্য বেচাকেনার জন্য যেতে হয় হাটবাজারে। তবে ইন্টারনেট প্রযুক্তির বদৌলতে হাটবাজারে না গিয়েও কেনা যায় পছন্দের পণ্য। হোক তা আকর্ষণীয় নকশার রঙ বাহারি শাড়ি, জামা, প্যান্ট, জুতা কিংবা অন্য কোনো ব্যবহার্য পোশাক-আশাক।

বাদ নেই রসনাবিলাসী বিরিয়ানি, খিচুড়ি, কোর্মা, পোলাও। এক কথায় অনলাইনে পছন্দের সব পণ্যই এখন মেলে ঘরে বসে। তবে মাথা গোঁজার ঠাঁই ঘর বানাতে হয় নিজের সার্বিক সামর্থ্য অনুযায়ী। 

আর সে জন্য দৌড়াতে হয় নির্দিষ্ট দোকান বা এলাকায়। ছন ও বাঁশ দিয়ে ঘর তৈরির জন্য প্রস্তুতি এক রকম। ঢেউটিন কাঠ ও লোহার নানা রকম সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে হয় আরেক ধরনের ঘর তৈরির জন্য। পাকা দালান বাড়ির জন্য চাই ইট, সিমেন্ট, রড আরো কত কিছু। এসব আয়োজনের পালা শেষে দরকার দক্ষ কারিগর। আকার, প্রকার ও রং নকশার তারতম্য অনুযায়ী একেকটি ঘর বা দালান নির্মাণে বেশ কিছুদিন সময় লেগে যায়। 

কারিগরদের সাজসরঞ্জাম সরবরাহ থেকে শুরু করে তাদের খাওয়া-দাওয়া ছাড়াও সার্বক্ষণিক দেখভাল করার জন্য লাগে বাড়তি লোকবল। এমন সব ঝৈঝামেলা ছাড়াই অন্য সব পণ্যের মতোই নগদ টাকায় কেনা যায় দোচালা থেকে শুরু করে সাত-আট চালা বিশিষ্ট পছন্দের ঘর। সে জন্য আছে ‘ঘরের হাট’। আছে নান্দনিকতার ছোঁয়া।

রাজধানীর অদূরে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে এমন কয়েকশ হাট। তার মধ্যে ব্যাপক পরিসরের হাট কুন্ডেরবাজার এলাকায়। সরজমিনে দেখা যায়, আনুমানিক পাঁচ বিঘা জমিতে জমে উঠেছে এ হাট। শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন আকারে তৈরি ছয়-সাতটি ঘর। পাশেই আরো ঘর তৈরির জন্য চলছে সাত-আট জন কারিগরের কর্মযজ্ঞ। কথা হয় রামপাল-নীমতলী সড়কের পাশে কুন্ডেরবাজার এলাকার ঘরের হাট ‘কাঠ বিতান’ এর প্রধান কারিগর বা মিস্ত্রি মন্টু রঞ্জন বৈরাগীর সঙ্গে। যার রয়েছে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এ কাজের অভিজ্ঞতা। 

তিনি জানান, মূলত উন্নতমানের বিদেশি কাঠ, ঢেউটিন ও প্লেন সিট দিয়ে তৈরি করা হয় আকর্ষণীয় রং নকশার ঘর। আর এতে ব্যবহার করা হয় কংক্রিটের খুঁটি। যার কয়েকটি স্থানে আঁটা থাকে নাটবল্টু। ভূমি থেকে প্রত্যেকটি ঘর তিন ফুট উঁচুতে দাঁড়ানো। দরদাম পাকা হলে প্রতিটি অংশ খুলে আলাদা করে মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যে ক্রেতার বাড়িতে অবিকল আকারে প্রতিস্থাপন করা হয়। আর সে জন্য ক্রেতাকে গুনতে হয় ঘর ভেদে ২ থেকে ১৫ লাখ টাকা বা তারও বেশি। 

প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আহম্মদ জানান, অনেক দূর থেকেও ক্রেতা আসেন এ হাটে। পছন্দ হলে সামর্থ্য অনুযায়ী কিনে নেন ঘর। তবে তার মধ্যে বেশির ভাগই ধনাঢ্য ও শৌখিন ব্যক্তি। এমন আরো হাট বসে উপজেলার আজিমপুরা, পাইকপাড়া, বেতকা, রান্ধুনীবাড়ি ও বেশনাল এলাকায়। ঘর ব্যবসায়ী 
মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মূলত এই এলাকার মানুষের টিনের নকশা করা ঘরের প্রতি দুর্বলতা আছে। এলাকাটি নদীভাঙন প্রবণ। তাই, দালানের পরিবর্তে টিনের ঘর অপেক্ষাকৃত বেশি পছন্দের। এটা পরে বিক্রিও করা যায়। একটি পুরাতন টিনের ঘর বিক্রি করলে দামও পাওয়া যায় নতুনের প্রায় কাছাকাছি। যা অনেক সময় বিপদের বন্ধু হিসেবে কাজ করে।’

আজিমপুরার ব্যবসায়ী শামীম জানান, ‘সাত চালা আই-আঠাশ টপ বারিন্দাসহ সাড়ে ২৮ বর্গ হাতবিশিষ্ট একটি ঘর যা জাপানি প্লেন সিট ও এক আইচ লোহা কাঠ দিয়ে তৈরি ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি হয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচ