বিশ্বে সংঘাতপূর্ণ একটি দেশ আফগানিস্তান। দেশটিতে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ধারবাহিকতায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তালেবানদের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসেছিল। কিন্তু এই আলোচনার মাধ্যমে আফগানিস্তানে শান্তি কী ফিরবে?
এ নিয়ে গত ৩০ অক্টোবর ভারতীয় সংস্থা উসানাস ফাউন্ডেশন একটি ওয়েবিনার আয়োজন করে। 'হিলিং দ্য উন্ডস অব কানদাহার এন্ড কাবুল: সার্চিং ফর পিস ইন আফগানিস্তান' শীর্ষক ওয়েবিনারটি পরিচালনা করেছেন উসানাস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অভিনব পান্ডিয়া।
ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে আফগানিস্তানের সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত অমর সিনহা যুক্তরাষ্ট্র এবং তালেবানের মধ্যকার শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন এবারই প্রথম আফগান সরকার এবং তালেবানদের মধ্যে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-তালেবানদের শান্তি আলোচনার মাধ্যমে। আফগানিস্তানে ১৯ বছরের যুদ্ধ শেষে সেনা প্র্যতাহারে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুর্ভাগ্যক্রমে, এই চুক্তিতে আফগানদের ওপর তালেবানরা যে অত্যাচার করেছে সেটি সহ্য করা হয়েছ। এছাড়া তালেবানদের সহিংসতা কমানোর বিষয়টি নিয়ে কিছু বলা হয়নি।
সিনহা মনে করেন, তালেবানদের কার্যক্রমে জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে এবং তাদেরকে আরো সৎ হতে হবে। তালেবানরা যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা আল কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। যেটি আসলে সত্য নয় কারণ এই দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে ইতিমধ্যে প্রচুর আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এছাড়া যুক্তরারষ্ট্রের চুক্তিতে তালেবানদের সঙ্গে বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এর ফলে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস এবং আল কায়েদার সঙ্গে মিলে আফগান সরকারকে বিপাকে ফেলতে পারে তালেবানরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ মাইকেল রুবিন বলেন, আল কায়েদার সঙ্গে তালেবানদের সম্পর্ক ছিন্ন করাটা কঠিন হবে। কারণ এদের সম্পর্কে বাবা, ভাইয়ের মতো। মার্কিন প্রচেষ্টায় আফগানিস্তানে শান্তি ফিরবে কিনা এমন প্রশ্নে রুবিন বলেন, আফগানিস্তানের এই ঘোলাটে পরিস্থিতি ভারত এবং রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।
রুবিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগে ভাবতো যে পাকিস্তান তাদের পক্ষে রয়েছে। কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে বুঝতে পার ছে যে পাকিস্তান চীনের একটি প্রদেশের মতো হয়ে কাজ করছে। আর এ অঞ্চলের শান্তি নিশ্চিত করার জন্য পাকিস্তানের ওপর নির্ভর করা যাবে না ।
ইত্তেফাক/এআর
