গুণী বাঁশিবাদক গাজী আবদুল হাকিম। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেশ থেকে দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে তার খ্যাতির ব্যাপ্তি। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ মিউজিশিয়ান ফাউন্ডেশনের। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কাজের অভিজ্ঞতা ও দেশের মিউজিশিয়ানদের অবস্থা নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু
কাজের ব্যস্ততা কেমন চলছে?
রেকর্ডিং নিয়েই ব্যস্ত আছি। সিনেমার গান ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান চলছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ মিউজিক ফাউন্ডেশনের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রকলায়, এই সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বের সময় শেষ হচ্ছে। এই বার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তীতে দায়িত্বে কে আসবেন সেটি নিয়ে আলোচনা হবে। এই আয়োজন নিয়েও ব্যস্ততা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ মিউজিশিয়ান ফাউন্ডেশনের সভাপতি থাকাকালীন মিউজিশিয়ানদের জন্য উল্লেখযোগ্য কী কী সুবিধা যুক্ত করতে পেরেছেন?
আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল সারাদেশের মিউজিশিয়ানদের একত্রিত করা। সেটি আমরা করতে পেরেছি। প্রতিটি জেলায় আমাদের কমিটি রয়েছে। এছাড়া প্রতিবছর সারাদেশের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই কাজগুলো করা হয়েছে। আরো অনেক চেষ্টা ছিল। যেগুলো সামনে কার্যকর হবে আশা করি।
এদেশের মিউজিশিয়ানদের সম্মানী ও মূল্যায়ন নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন উঠেছে। সেই জায়গায় আপনাদের ভূমিকা কী ছিল?
এটি নিয়েও আমরা এগিয়েছি। বিভিন্ন টেলিভিশন ও সরকারি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। বিটিভিতে কিন্তু বেড়েছে। সবার প্রতি আমাদের আহ্বান ছিল। আমাদের সংগঠনের বয়স ৫ বছর। এই অল্প সময়ে সবকিছু করা তো সম্ভব নয়। তবে এই প্রচেষ্টা সবসময় অব্যাহত থাকবে।
এর সমাধান কী হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
সরকারের প্রতি এখানে আমাদের অনুরোধ মিউজিশিয়ানদের বাঁচার সুযোগ করে দিন। কারণ সংগীতকে বাঁচাতে মিউজিশিয়ানদেরও বাঁচাতে হবে। একাডেমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যেখান থেকে শেখার জায়গাটা আরো বিস্তর হবে। তাদের কাজের জায়গাকে মূল্যায়নের সুযোগ দিতে হবে। আমি দেশের সব গুণী সংগীতশিল্পীর সঙ্গে বাঁশি বাঁজিয়েছি। দেশের বাইরে আমি যে সম্মান পেয়েছি সেটি একজন শিল্পী হিসেবে আমার বড় পাওয়া। কিন্তু সুযোগ ও মূল্যায়নের অভাবে অনেক ভালো মিউজিশিয়ান হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের কাজের মূল্যায়ন প্রয়োজন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আপনি অনেকের সঙ্গে বাঁজিয়েছেন। এখনকার কণ্ঠশিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
অভিজ্ঞতা ভালো। এখনকার অনেক শিল্পী বেশ ভালো কাজ করছেন। তবে অডিও যুগে গানের যে জোয়ার ছিল সেটি তো এখন নেই। সময়ের সঙ্গে অনেককিছুর পরিবর্তন হয়েছে। পরিবর্তনের সঙ্গে ভালো কাজ হোক সেটিই আমাদের সবার প্রত্যাশা।
