ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত সিলেট

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২০, ২০:২৮

পুরো সিলেট বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে। এতে করে সন্ধ্যায় অন্ধকারে পতিত হন প্রায় ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক।  

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে আগুনের ঘটনায় এই অবস্থা হয়েছে সিলেট জুড়ে। 

বিদ্যুৎ না থাকায় দুপুর থেকেই বাসা-বাড়ি, মসজিদসহ নানা স্থানে পানিসহ নানা সংকট সৃষ্টি হয়। অফিস, আদালত, ব্যাংক বীমাসহ বিভিন্ন  প্রতিষ্ঠান প্রায় অচল হয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় অনেক মার্কেট ও শপিং মলগুলো বন্ধ হয়ে পড়ে। বিদ্যুতের অভাবে অনেক গৃহস্থলী কাজ ব্যাহত হয়। হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ জরুরী সেবা ব্যাহত হয়। অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় যানবাহন জ্বালানী সমস্যায় পড়েছে। বিশাল এলাকায় জনজীবনে মারাত্মক দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। রাতে চড়া দামে মোমবাতি বিক্রয় হয়।

মোবাইল, ইন্টারনেট সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে সিলেটে। বিপর্যস্ত সিলেটের বাসিন্দাদের এখন শুধু এক প্রশ্ন বিদ্যুৎ কবে আসবে। রাত ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যুতের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শেষ খবর পর্যন্ত কোন তথ্য দিতে পারেননি। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ একটা আওয়াজ শুনে তারা দেখতে পান আগুনের লেলিহান শিখা। পরে আগুন বৃদ্ধি পেতে থাকে। অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে না আসায় সিলেট ছাড়াও মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ফায়ার ব্রিগেডের ৭ টি ইউনিট প্রায় দেড়ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রথমে ৫টি ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে আরো দুটি ইউনিট যোগ দিয়ে জোর প্রচেষ্টা চালায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। 

সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোকাম্মেল হোসেন  বলেন, আগুনে দুটি ট্রান্সফরমার পুড়ে গেছে। এ অবস্থায় পুরো সিলেটে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ।

পিজিসিবি সূত্র বলছে, কুমারগাঁও উপকেন্দ্র থেকে ছাতক, সুনামগঞ্জ এবং বিয়ানীবাজার উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। কুমারগাও উপকেন্দ্রে চারটি ১৩২/৩৩ কেভি একটি ট্রান্সফরমার রয়েছে। এরমধ্যে একটি ট্রান্সফরমার পুড়ে গেলেও বাকি তিনটি ভালো আছে বলে আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে। এখন উপকেন্দ্রের অন্য তিনটি ট্রান্সফরমার পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সেগুলো ঠিক থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ