করোনার সময় পোশাকশ্রমিকের যথাযথ
পাওনা থেকে বঞ্চিত করা ইস্যু
ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনা শুরু হওয়ার পর ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিতের কারণে বিশ্বব্যাপী তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক বিভিন্ন দেশে শ্রমিকের পাওনার ওপর কোপ পড়ে। বহু কারখানার মালিক শ্রমিকের পাওনা মজুরি কমিয়ে দিয়েছেন কিংবা কিছু ক্ষেত্রে একেবারেই দেননি। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাওনা না দিয়ে ছাঁটাই করার অভিযোগও রয়েছে। বিশ্বব্যাপী যেসব ব্র্যান্ডের সরবরাহকারী কারখানা মার্চ থেকে এসব পাওনা দেয়নি, তাদের ওপর চাপ বাড়ছে, যাতে শ্রমিকের যথাযথ পাওনা পরিশোধে ব্র্যান্ডগুলো উদ্যোগ নেয়।
ইউরোপভিত্তিক শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা প্ল্যাটফরম ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইন অন্তত তিনটি ব্র্যান্ডের নাম উল্লেখ করে ঐ সব ব্র্যান্ড যেসব কারখানা থেকে পোশাক নেয়, সেখানে (সরবরাহ চেইন) শ্রমিকের পুরো পাওনা পরিশোধের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ব্র্যান্ডগুলো হলো এইচঅ্যান্ডএম, প্রাইমার্ক ও নাইকি। এর সঙ্গে শ্রমিক অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি, ট্রেড ইউনিয়নিস্ট এবং শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলা বিভিন্ন সংস্থাও রয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইন (সিসিসি)।
সিসিসির এক গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের অতিমারি শুরু হওয়ার পর তিন মাসের হিসাবে শ্রমিকেরা ৩২০ কোটি ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৫৮০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে শ্রমিকেরা। বাংলাদেশেও গার্মেন্টস শ্রমিকদের পুরো পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। এর বাইরে অন্যান্য খাত তো হিসাবের মধ্যেই নেই। যদিও শ্রমিকের মজুরি পরিশোধে সরকার নামমাত্র সুদে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের জোগান দিয়েছে গার্মেন্টস কারখানার মালিকদের।
সূত্র জানিয়েছে, সিসিসি তিনটি ব্র্যান্ডের নাম উল্লেখ করলেও বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি পোশাক নেওয়া সুইডিশ ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএম করোনার সময়েও কোনো ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত করেনি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ অফিস। শুধু তাই নয়, তারা পরবর্তী সময়েও ক্রয়াদেশ অব্যাহত রেখেছিল।
