চট্টগ্রামে দুই রকম গ্যাস বিল ক্ষতিতে মিটারবিহীন গ্রাহক

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২০, ২২:১৭

চট্টগ্রামে আবাসিক খাতে গ্যাসের দুই ধরনের বিল আদায় হচ্ছে। নগরীতে প্রায় ৬ লাখের মতো আবাসিক গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে ৬০ হাজার গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছে। বাকি গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকারনির্ধারিত ডাবল চুলার ক্ষেত্রে ৯৭৫ টাকা ও সিংগেল চুলায় ৯০০ টাকা হারে বিল আদায় করা হচ্ছে। দুই ধরনের বিলের কারণে মিটারবিহীন গ্রাহকদের ব্যবহূত গ্যাসের মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহক থেকে বাড়তি প্রায় ২০ কোটি টাকা আদায় করা হচ্ছে।

গ্যাসের শিল্প, বাণিজ্যিক, সিএনজি, বিদ্যুত্, ক্যাপটিভ পাওয়ার ও আবাসিক গ্রাহক রয়েছে। শুরু থেকেই আবাসিক ছাড়া অন্যান্য গ্রাহক থেকে মিটারে বিল আদায় করা হচ্ছে। মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহকরা দীর্ঘদিন যাবত্ সরকারনির্ধারিত হারে বিল পরিশোধ করে আসছে। আগে ডাবল চুলায় ৬৫০ টাকা ও এক চুলায় ৪৫০ টাকা হারে বিল আদায় করা হতো। পরবর্তী সময়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পর এক ধাপে বিল বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা ও ৯০০ টাকা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আবাসিকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের মূল্য ১২ টাকা ৬০ পয়সা। ফলে আবাসিকে ডাবল চুলায় ৭৭ ঘনমিটার ও সিংগেল চুলায় ৭১ ঘনমিটার গ্যাসের মূল্য আদায় করা হয়। কিন্তু কোম্পানির হিসাবে দেখা গেছে ডাবল চুলার গ্রাহকরাও মাসে ৪০ ঘনমিটারের বেশি গ্যাস ব্যবহার করেন না। আবার অনেক গ্রাহক গ্যাস-সংযোগ নিয়ে রাখলেও অনিয়মিত চুলা ব্যবহার করেন। বাসায় না থাকলে গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে না। অনেক ফ্ল্যাট ভাড়া হচ্ছে না, খালি পড়ে রয়েছে। কিন্তু তাদের নির্ধারিত হারে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে গড় বিলে গ্রাহকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি ৬০ হাজার আবাসিক গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় এনেছে। এসব গ্রাহক মিটার রিচার্জ করে গ্যাস ব্যবহার করছেন। এতে প্রচুর গ্যাস সাশ্রয় হচ্ছে। প্রিপেইড মিটার নিয়ে     গ্রাহকরা সন্তুষ্ট। কারণ তারা যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করছে তার মূল্য দিতে হচ্ছে। নগরীর কসমোপলিটন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ব্যাংকার মোজাম্মেল হক মামুন জানান, তিনি প্রিপেইড মিটারে গ্যাস ব্যবহার করছেন। তার ডাবল চুলার জন্য প্রতি মাসে ৫০০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে না। নাসিরাবাদ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আহমদ রশিদ জানান, পরিবারের সদস্য সংখ্য কম। তাই মাসে ৪০০/৪৫০ টাকার বেশি রিচার্জ করতে হয় না। নগরী দেওয়ানবাজার এলাকার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক সৈয়দ হোসেন জানান, প্রিপেইড মিটারে তার অনেক টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। মাসে সর্বোচ্চ ৫০০/৫৫০ টাকার বেশি রিচার্জ করতে হয় না।

প্রিপেইড মিটারিংয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রকল্প

প্রথম প্রকল্পে সুফল পাওয়ার পর চট্টগ্রামে আবাসিক খাতে গ্যাসের প্রিপেইড মিটার বসানোর জন্য দ্বিতীয় প্রকল্প গ্রহণ করেছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। দ্বিতীয় প্রকল্পে আরো ১ লাখ আবাসিক গ্রাহককে মিটারের আওতায় আনা হবে। প্রায় ২৪৩ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ প্রকল্পটি কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। বর্তমানে প্রকল্পটি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস) প্রকৌশলী সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রিপেইড মিটারে গ্যাসের যেমন সাশ্রয় হচ্ছে তেমনি গ্রাহকদেরও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। সাশ্রয়কৃত গ্যাস আমরা অন্য খাতে ব্যবহার করতে পারব। সরকার গ্রাহক থেকে অগ্রিম বিল পেয়ে যাচ্ছে। প্রিপেইড মিটার ব্যবহারে দুর্ঘটনাও কমে যায়। দ্বিতীয় প্রকল্পে ১ লাখ গ্রাহককে আওতায় আনা হবে। আর তৃতীয় দফায় ২ লাখ ও শেষ দফায় বাকি আবাসিক গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হবে।’