স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর পর তার বন্ধু খোরশেদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। ফাঁসির রায় বাতিল চেয়ে আসামির করা আপিল খারিজ করে গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ। এ রায়ের ফলে নিহত নাসিমা আক্তারের স্বামী সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ওরফে টিপু এবং তার দুই বন্ধু শহীদুল ইসলাম ও খোরশেদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এর আগে গত ৭ অক্টোবর টিপু ও শহীদুলের ফাঁসি বহালের রায় দেয় আপিল বিভাগ। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ ও আসামিপক্ষে হেলালউদ্দীন মোল্লা শুনানি করেন।
বিশ্বজিত দেবনাথ জানান, আসামিদের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রয়েছে। আর হত্যাকাণ্ডটি ছিল নির্মম প্রকৃতির। আদালত অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছে। দণ্ডিতরা সবাই কনডেম সেলে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০০০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ওয়েল ফার্ম গার্মেন্টসের কর্মী অন্তঃসত্ত্বা নাসিমা আক্তারকে নিয়ে তার স্বামী টিপু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে যায়। তাদের সঙ্গে টিপুর দুই বন্ধু শহীদুল ও খোরশেদ ছিল। ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী টিপু তার স্ত্রীকে ভাসানী হলের পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে পেটে ছুরিকাঘাত করে নাসিমাকে হত্যা করে আসামিরা। হত্যার পর নাসিমার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। এ ঘটনায় সাভার থানায় দায়েরকৃত মামলায় ২০০৭ সালে টিপুসহ তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। ঐ রায়ে বিচারক বলেন, আসামিদের নৃশংসতার তালিকায় শুধু সন্তানসম্ভাবা নাসিমাই নন, তার উদরস্থ সন্তানও ছিল। তা না হলে সাত মাসের গর্ভবতী নাসিমাকে পেটে বা বুকে প্রথমে আঘাত করার কোনো কারণ ছিল না। এরপর তাকে হাত, পা ও মাথা চেপে ধরে গলায় ফাঁস দিয়েছে, যা তার মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট ছিল। এর পরও তার পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত মাতৃ-উদরস্থ শিশুর প্রতি এক চরম নৃশংসতা। মা ও শিশুর মৃত্যু নিশ্চিতের পর পুনরায় নাসিমার গলা কেটে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি পৈশাচিকতাকেও হার মানিয়েছে। আসামিদের হাত থেকে যেমন নিরপরাধ নয় নিজের স্ত্রী, তেমনি নয় মাতৃ-উদরস্থ শিশুসহ কোনো শিশুই। এ কারণে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হলো। বিচারিক আদালতের এই রায় ২০১২ সালে বহাল রাখে হাইকোর্ট। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামিরা। সেই আপিল খারিজ করে ফাঁসি বহাল রাখে আপিল বিভাগ।
