‘ফ্রেন্ডশিপ হ্যাজ নো বাউন্ডারি’। বন্ধুত্বের কোনো গণ্ডি নেই। সেই গণ্ডি ভাঙার গল্প নিয়ে নতুন ছবি নির্মাণ শুরু করেছেন ‘ভুবন মাঝি’ খ্যাত চিত্রনির্মাতা ফাখরুল আরেফিন খান। সীমানা বা গণ্ডি পেরোনোর গল্প, তাই ছবির নাম ‘গণ্ডি’। পরিচালকের মতে, ‘গণ্ডি’ হলো মানুষের জীবনের সৌন্দর্যের গল্প। এ সৌন্দর্য নষ্ট হয় গণ্ডিবদ্ধতার কারণে।
ফাখরুলের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ভুবন মাঝি’ ছিল মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক। নতুন ছবিটি রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার। গণ্ডির শুটিং লন্ডনে শুরু হলেও এটা দেশের গণ্ডি পাড়ি দিয়ে যাওয়া নয়। ৫৫ ও ৬৫ বছর বয়সী দুজন মানুষের গল্প। এই বয়সে দুজনের বন্ধুত্ব হলে কেমন হয়, চারপাশ, এমনকি পরিবার কীভাবে নেয় তাদের সম্পর্কটিকে-এসব নিয়েই এগিয়ে চলেছে ফাখরুলের এ ছবির গল্প।
গণ্ডিতেও যথারীতি আছেন ভুবন মাঝির দুই অভিনয়শিল্পী অপর্ণা ঘোষ ও মাজনুন মিজান। গুরুত্বপূর্ণ শিশুশিল্পীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন ফিয়োনা। গণ্ডির শুটিং মূলত তিনটি জায়গায় হবে, যার একটি ছিল লন্ডন, এরপর কক্সবাজার ও ঢাকায়। আগামী মার্চে হবে কক্সবাজার অংশের শুটিং। এই অংশে অভিনয় করবেন কলকাতার অত্যন্ত গুণী অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী। বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার বিপরীতে অভিনয় করবেন তিনি। এ দুটি চরিত্রের সম্পর্কের সূত্র ধরেই এগিয়ে যাবে চলচ্চিত্রটির কাহিনি।
ফাখরুল জানান, চরিত্র, বয়স, অভিনয় দক্ষতা এবং চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা এবং সর্বোপরি সুবর্ণা মুস্তাফা আর সব্যসাচী চক্রবর্তীকে বাংলা চলচ্চিত্র অসাধারণ জুটি হিসাবে দেখা যাবে বলে আশা করা যায়। গণ্ডি ভেঙে ফিরে আসুক মানুষের সম্পর্কের সৌন্দর্য, ভেঙে যাক বৃত্ত। গণ্ডি সেই বৃত্তভাঙার ছবি, যা ধারণ করে মানুষের জটিল মনস্তত্ত্বকে, সময়কে।
গুণী নির্মাতা ফাখরুল আরেফিন খানের দ্বিতীয় এই ছবির প্রথম অংশের সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করেছেন নেপালি বংশোদ্ভূত গুণী চিত্রগ্রাহক কুশল শ্রেষ্ঠ। ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন রেজা আরিফ। আগামী বছরের শুরুতে ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
‘গণ্ডি’ নিয়ে ইত্তেফাকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ফাখরুল। এমন একটি গল্পের ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি মানুষ স্বাধীন হবে। সব দিক দিয়ে স্বাধীন হবে। মানুষের জীবন চলার পথে নানা বাধা সামনে এসে দাঁড়ায়। যা তার জীবনকে ঠিকমতো এগুতে দেয় না, মানুষের জীবনের স্বাদ নিতে দেয় না!
আরও পড়ুনঃ আমি মদ খাইনি, ট্রাকচালক খেয়েছিলেন: অহনা
মানুষকে হতে হবে মুক্ত, স্বাধীন। নাহলে “মানুষ জীবনের স্বাদ” মানুষ আস্বাদন করতে পারবে না। আমার চিন্তায় থাকে মানুষের মুক্তি। সে চিন্তা থেকেই এ গল্প মাথায় আসা।
মানুষের বন্ধুত্বের সঙ্গে বয়স, ধর্ম, গোত্র, ইত্যাদি বাঁধা হতে পারে না। সে কথাই এ চলচ্চিত্রে বলার চেষ্টা করেছি।’
ইত্তেফাক/নূহু
