ধর্ষণ মামলার রায় প্রকাশের এক বছর পরে প্রজ্ঞাপন

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:২৩

প্রায় দেড় বছর আগে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছিলো হাইকোর্ট। রায়ের ঐ নির্দেশনাসূমহ প্রতিপালন করে বিচার কাজ পরিচালনা করতে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের ঐ নির্দেশনা অবিলম্বে নিন্ম আদালতের বিচারকদের অবহিত করতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে বলা হয়েছিলো। সেই হিসাবে পূর্ণাঙ্গ রায় দ্রুত প্রকাশ করে হাইকোর্ট। কিন্তু দ্রুত রায় প্রকাশ পেলেও নিম্ন আদালতের বিচারকদের তা অবহিত করতে লেগেছে এক বছরের বেশি সময়।

কেন এই বিলম্ব সেই বিষয়ে কোন বক্তব্য দেননি হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমান। তবে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ের অনুলিপি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। সেখান থেকে রায়ের নির্দেশনাসমূহ অধস্তন আদালতের বিচারকরা পেয়ে থাকেন। উচ্চ আদালতের রায়ের নির্দেশনাসমূহ অধস্তন আদালতের বিচারকদের মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। এমতাবস্থায় বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধনী আনে সরকার। ঐ সংশোধনীতে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা হয়। তখন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অবশ্যই রক্ষা করা হবে। প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করা হবে তিনি যেন একটি প্র্যাকটিস ডাইরেকশন দেন যাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিচারকগণ যথাযথ পদক্ষেপ নেন। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশনাসমূহ প্রতিপালন করা হলে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাগুলোর বিচারে গতি পাবে।

প্রসঙ্গত ‘মো. রাহেল ওরফে রায়হান বনাম রাষ্ট্র’ ও ‘মো. সেকান্দার আলী বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চের দেয়া রায়ের নির্দেশনায় ধর্ষণ মামলার বিচার আইনে বেঁধে দেয়া ১৮০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন, মুলতুবি ছাড়া মামলার শুনানি গ্রহণ, ধার্য তারিখে সাক্ষীর উপস্থিতি ও তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে মনিটরিং কমিটি গঠন, সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ হলে মনিটরিং কমিটিকে জবাবদিহি করা, সমন পাওয়ার পর অফিসিয়াল সাক্ষী (ম্যাজিস্ট্রেট/পুলিশ/ডাক্তার ও অন্যান্য বিশেষজজ্ঞগণ) সন্তোষজনক কারণ ব্যতিরেকে সাক্ষ্য প্রদানে হাজির না হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বেতন বন্ধের আদেশ দিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের বলা হয়।

আরো পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে মাদারীপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদ

এই রায়ের নির্দেশনাসূমহ মেনে বিচার কাজ পরিচালনার জন্য গত ২৫ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর। এতে বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ধর্ষণ এবং ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা সংক্রান্ত মামলাসমূহ বিদ্যমান আইনের অধীন দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্ট কতিপয় নির্দেশনা প্রদান করেছে। সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধস্তন আদালতের সকল পর্যায়ের বিচারকদের বলা হলো।

এ প্রসঙ্গে আইন সাময়িকী ঢাকা ল’ রিপোর্টস (ডিএলআর) এর সম্পাদক ও দুদকের প্রধান কৌসুলি খুরশীদ আলম খান ইত্তেফাককে বলেন, রায় প্রকাশের এক বছরের বেশি সময় পর কেন প্রজ্ঞাপন করা হলো বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। এই ঘটনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে প্রশাসনিক আমলাতন্ত্রের লাল ফিতা আমাদের আষ্ঠেপৃষ্টে বেঁধে রেখেছে। আমি মনে করি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলেই এর সুফল পাবে বিচারপ্রার্থী জনগণ।

ইত্তেফাক/এএএম