ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নে পুরোদমে চালু হয়েছে ৫২টি অবৈধ ইটভাটা। গত নভেম্বরে ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে চলতি মৌসুমে ইট পোড়ানোর প্রস্তুতি চলছে এমন খবর প্রকাশিত হলেও ইটভাটাগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন। ইতিমধ্যে এসব ইটভাটায় চুল্লি জ্বলেছে। এ ব্যাপারে ইটভাটা মালিক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলো তারা কেউই কথা বলতে রাজি হননি। অপরদিকে এক ইউনিয়নের এতোগুলো ইটভাটার তথ্যও জানা নেই স্থানীয় সংসদ সদস্যের।
ঈশ্বরদী পৌর শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত পদ্মা নদীর তীরে লক্ষীকুন্ডায় ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা। লক্ষীকুন্ডার তিনটি গ্রাম কামালপুর, দাদাপুর ও বিলকেদার গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কৃষি জমির ওপর এসব ইট ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে। ভাটা নির্মাণের জন্য চিমনির উচ্চতা ও আনুষঙ্গিক যে নির্দেশনা রয়েছে তা অধিকাংশ ভাটা মালিকারা মানেননি। ভাটাগুলোতে জ্বালানি হিসেবে কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার হচ্ছে। এখানে রয়েছে ৫০টি অটোফিস এবং দুটি জিকজ্যাক (হাওয়া) ভাটা। অটোফিস ভাটায় কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হয়। এসব ভাটা দিয়ে নির্গত কালো ধোঁয়া অনবরত এলাকার পরিবশে দূষণ করছে। বেশির ভাগ ভাটার মালিকরা ইট তৈরির জন্য অবৈধ উপায়ে পদ্মার চর থেকে মাটি সংগ্রহ করে থাকেন। প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, ভাটার মালিকরা সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স কিছুই দেন না।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল লতিফ জানান, বিপুল সংখ্যক ইটভাটা গড়ে উঠায় লক্ষীকুন্ডায় কৃষি জমির পরিমাণ কমে গেছে। ইটভাটার নির্গত কালো ধোঁয়ায় ও ছাইয়ে আম-লিচু-কাঁঠালের বাগান এবং ফসলী জমির ওপর প্রভাব পড়বে। দূষণের প্রভাবে স্বাভাবিক জনজীবন ক্রমশ হুমকির সম্মুখীন হবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার পি এম ইমরুল কায়েস জানান, এসব অবৈধ ইটভাটায় কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোর ফলে পরিবেশ দূষণ এবং কৃষি ফসলের ওপর প্রভাব পড়ছে। উচ্ছেদের জন্য ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। অচিরেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।
আরো পড়ুন: বিষাক্ত পটকা মাছ খেয়ে শাশুড়ি পুত্রবধূর মৃত্যু!
উপজেলা প্রকৌশলী এনামুল কবীর বলেন, ইটভাটার ইট ও ড্রাম ট্রাকে বালু পরিবহনের জন্য ওই এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা শোচনীয়। নতুন করে রাস্তা নির্মাণ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ভারি এসব পরিবহন চলাচল বন্ধ না হলে নতুন রাস্তা নির্মাণ করেও কোনো লাভ হবে না।
এব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মুঠোফোনে বলেন, আমি এখন বগুড়ার দায়িত্বে নেই। বগুড়া অফিসের নম্বরটি চাওয়া হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ফোন কেটে দেন।
এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুজ্জামান বিশ্বাসকে অবৈধ ইটভাটা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উম্মা প্রকাশ করে বলেন, পরিবেশ ও কৃষিজমি বিনষ্ট করে দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে এক ইউনিয়নে এতোগুলো অবৈধ ইটভাটা চালু রয়েছে তা আমার নলেজের বাইরে।
ইত্তেফাক/এসি
