করোনা মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাঙ্গামাটির পর্যটন খাত

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২১, ১৩:৫৫

বৈশ্বিক মহামারি করোনার বিপর্যয় মোকাবিলা করে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাঙ্গামাটির পর্যটন খাত। ২০২০ সালকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছর ২০২১ সালের শুরুতেই রাঙ্গামাটির পর্যটন স্পটগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে। রাঙ্গামাটির পর্যটন স্পটগুলোতে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। করোনার দ্বিতীয় থাবা আসতে শুরু করলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সচল হয়ে উঠেছে এ খাতের ব্যবসা-বাণিজ্য। আবারো প্রাণ ফিরে পাচ্ছে এখানকার পর্যটন স্পটগুলো।

বর্তমান শীত মৌসুমের শুরু থেকেই রাঙ্গামাটির পর্যটকের আগমন ঘটছে পর্যটকের। অরণ্য, পাহাড়, ঝরনা আর হ্রদের শহর রাঙ্গামাটি গড়ে উঠেছে বেশ কিছু পর্যটন কেন্দ্র। শীত মৌসুম শুরুর সাথে সাথে কিছু কিছু পর্যটকের আগমন ঘটলেও বছরের প্রথম দিন থেকে রাঙ্গামাটির পর্যটন স্পটগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। রাঙ্গামাটির হোটেল-মোটেলগুলোতেও বুকিং রয়েছে সবসময়। রাঙ্গামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ পর্যটকরা। 

রাঙ্গামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের বোট ইজারাদার মো. ওসমান গণি বলেন, রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পের আকর্ষণ হচ্ছে কাপ্তাই হ্রদ আর পাহাড়। এই দুইয়ের সংমিশ্রণে রাঙ্গামাটির পর্যটনকে যেমন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। ব্যবসায় ভালো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাঙ্গামাটি হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন সেলিম ও হোটেল মতি মহলের ম্যানেজার চন্দন দাশ ব্রাহ্মণ বলেন, রাঙ্গামাটির হোটেল-মোটেলগুলোতে প্রায় শতভাগ বুকিং রয়েছে। শহরের কোন হোটেলে সিট খালি নেই। এছাড়া রাঙ্গামাটির সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়িয়ে বিলাসবহুল বাস সার্ভিস চালু হলে প্রতিদিন আরো ২ থেকে ৩ হাজার পর্যটক বাড়তে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, নতুন বছরের শুরুতেই পর্যটক আসতে শুরু করছে। পর্যটন কর্পোরেশনে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ রুম বুকিং হয়ে গেছে। শুধু পর্যটন এলাকা নয়, রাঙ্গামাটি বিভিন্ন পর্যটন স্পটে বিপুল পরিমাণ পর্যটক লক্ষ্য করা গেছে। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকদের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। যারা মাস্ক নিয়ে আসে নাই অথবা মাস্ক হারিয়ে ফেলেছে তাদের মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে।

নতুন বছরে করোনার দ্বিতীয় থাবা যদি সঠিকভাবে মোকাবিলা করা যায় তা হলে রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্প আবারো ঘুরে দাঁড়াবে এমনটাই আশা করছেন রাঙ্গামাটির অভিজ্ঞ মহল।

ইত্তেফাক/এএএম