শেয়ারবাজার

করোনার বছরে পুঁজিবাজারে এসেছে আট কোম্পানির আইপিও

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২১, ২১:১৯

করোনা মহামারি বদলে দিয়েছে পৃথিবী, বদলে দিয়েছে আমাদের জাতীয় প্রেক্ষাপট। সমগ্র দেশ লকডাউনে বন্দি। যাপিত জীবনের প্রভাব থেকে আমাদের শেয়ারবাজারও মুক্ত থাকতে পারেনি। বছরের শুরুতেই বাজারের অস্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতায় স্মরণকালের সবচেয়ে মন্দাবস্থায় চলে যায় দেশের শেয়ারবাজার| শুধু ব্যক্তি বিনিয়োগকারী নন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বাজার থেকে সরে যায়| অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের ইক্যুইটি নেতিবাচক হয়ে পড়ায় বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়| সব মিলিয়ে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়ে শেয়ারবাজার, যথা—দেশের অর্থনীতি। করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও বিশেষ সতর্কতায় বেশ কয়েক বার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের সময় পরিবর্তন করা হয়। এরপর এক পর্যায়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় শেয়ারবাজারের লেনদেন। ২০২০ সালে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসসিতে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো—

আইপিও

শিল্প উদ্যোক্তারা ২০২০ সালে বাজার থেকে মোট আটটি কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে ৯৮৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। এর মধ্যে তিনটি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ৩১১ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করে। অন্যদিকে ২০১৯ সালে একটি করপোরেট বন্ডসহ মোট ৯টি সিকিউরিটিজ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে মোট ৬৫২ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি কোম্পানি প্রিমিয়াম বাবদ ২৩৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা মূলধন উত্তোলন করে|

তালিকাভুক্তি

২০২০ সালে একটি করপোরেট বন্ডসহ মোট ৯টি সিকিউরিটিজ ৬০০২ কোটি ৭১ টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়। অন্যদিকে ২০১৯ সালে একটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ মোট ১০টি সিকিউরিটিজ ১৪৪৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়?

লেনদেন টাকা

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালে ২০৮ দিন লেনদেন হয়| ৩৮ কার্যদিবস লেনদেন কম হলেও ২০২০ সালে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১,৩৪,৯৮১ কোটি ২২ লাখ টাকা| যা ডিএসইর ইতিহাসে পঞ্চম সর্বোচ্চ লেনদেন এবং আগের বছরের চেয়ে ২১,১৫৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বা ১৮.৫৯ শতাংশ বেশি| যার গড় লেনদেন ছিল ৬৪৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা| অন্যদিকে ২০১৯ সালে ২৩৭ কার্যদিবসে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১১৩,৮২১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং গড়ে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৮০ কোটি ২৬ লাখ টাকা|

ডিএসইর মূল্যসূচক সমূহ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের বছরের চেয়ে ৯৪৯.১৩ পয়েন্ট বা ২১.৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৪০২.০৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়| ২০২০ সালে ডিএসইএক্স মূল্যসূচক সর্বোচ্চ ৫৪০২.০৭ পয়েন্টে উন্নীত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ৩৬০৩.৯৫ পয়েন্ট| ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ৪,০৯০.৪৭ পয়েন্ট নিয়ে এ সূচকের যাত্রা শুরু হয়| ডিএসই ৩০ সূচক (ডিএস৩০) ৪৫০.৬১ পয়েন্ট বা ২৯.৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৬৩.৯৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়| একই বছর ডিএসইএক্স শরীয়াহ্ সূচক (ডিএসইএস) ২৪২.২৮ পয়েন্ট বা ২৪.২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২৪২.১১ পয়েন্টে উন্নীত হয়|

বাজার মূলধন

২০২০ সালে বাজার মূলধন ডিএসইর ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে| ডিএসই বাজার মূলধন আগের বছরের তুলনায় ১ লাখ ০৮ হাজার কোটি টাকা বা ৩২.০১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়| ২০২০ সালে বাজার মূলধন সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ২ লাখ ৮৭ হাজার কোটি|

বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের লেনদেন

২০২০ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বিগত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ| ২০২০ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০,৩৮৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা| যা মোট লেনদেনের ৭.৬৯ শতাংশ| অন্যদিকে ২০১৯ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭,৮৪৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা| যা মোট লেনদেনের ৬.৮৯ শতাংশ|

মোবাইল লেনদেন

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোবাইলের মাধ্যমে লেনদেন বেড়েছে। যা ২০২০ সালে ৪৯ হাজার ১৫১ জনে উন্নীত হয়| ২০২০ সালে মোবাইলের মাধ্যমে মোট ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৬৯টি আদেশ প্রেরণ করে| এর মধ্যে ৪৯ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৭টি আদেশ কার্যকর হয়|