কেঁচো সার তৈরি ও বসতবাড়িতে সবজি চাষ

পত্নীতলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নারীদের বিকল্প আয়ের উত্স

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২১, ২২:১৭

নওগাঁর পত্নীতলায় কেঁচো সার তৈরি, বসতবাড়িতে সবজি চাষ ও মুরগি পালন করে বিকল্প আয়ের মাধ্যমে পরিবারে ভূমিকা রাখছেন কয়েক শ পরিবারের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা। আয়ের পাশাপাশি বাড়ির পরিবারের সদস্যদের পুষ্টির চাহিদা মেটাচ্ছেন তারা। জানা গেছে, বর্তমানে জেলায় প্রায় আড়াই লাখ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাস করেন। এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে উরাও, পাহান, সান্তাল, রাজোয়ার, ভুঁইয়া, মাহাতো, তুরি, মাহালি ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে পত্নীতলায় বসবাসরত প্রায় ৩৫ হাজার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ চরম সংকটে পড়ে। পরবর্তী সময়েকেঁচো সার উত্পাদন ও বাজারজাতকরণ, মুরগি পালন এবং বাড়ির ছাদে ও খোলা জায়গায় সবজি চাষের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের পথ সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা কারিগরি শিক্ষা নেয়।

সরেজমিনে উপজেলার পত্নীতলা ইউনিয়নের শম্ভুপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নারীদের কর্মব্যস্থতা। ঐ গ্রামের রায়মুনি পাহান নামে এক নারী কেঁচো সারের পরিচর্যা করছেন। তিনি জানান, গত প্রায় এক বছরে তিনি আট মণ কেঁচো সার তৈরি করেছেন। সাত মণ সার নিজের জমিতে ব্যবহার করেছেন। ৫৪০ টাকায় এক মণ সার ও ১ হাজার ২৮০ টাকায় তিনি ৮০০ গ্রাম কেঁচো বিক্রয় করেছেন। এতে বাড়তি আয় হচ্ছে। তাছাড়া এ সার তৈরিতে বাড়তি কোনো খরচ ও সময় লাগে না বলেও জানান পাহান। সুমতি উরাও নামে আরেক নারী জানান, বিএসডিও থেকে বীজ পেয়ে তিনি বাড়ির সামনের পতিত জমিতে লালশাক, পালংশাক, ধনিয়া, কপি, রসুন, টম্যাটো লাগিয়েছেন। এই সবজিখেতে তিনি কেঁচো সার ব্যবহার করেছেন। উত্পাদিত সবজি নিজেরা খাচ্ছেন এবং বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন।

পত্নীতলা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি অফিসার ইছাহাক হোসেন বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের কেঁচো সার তৈরি ও বসতবাড়িতে সবজি চাষবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব কেঁচো সার জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এটা মানুষের স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি করে না।