বুড়িগঙ্গার পানিদূষণের জন্য দায়ী কেরানীগঞ্জ এলাকার ৩০টি ওয়াশিং প্ল্যান্টের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গার পানিতে বা নদীর তীরে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন ময়লা-আবর্জনা ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে ঢাকার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
যদি কেউ দূষণের কাজে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এসংক্রান্ত মামলার শুনানি নিয়ে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ আদেশ দেয়। আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
যাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে :আহামদ হোসেন ওয়াশিং, আমেনা ওয়াশিং, সানমুন ওয়াশিং, ইডেন ওয়াশিং, বিসমিল্লাহ ওয়াশিং, লোটাস ওয়াশিং, গ্লোবাল ওয়াশিং, রুবেল ওয়াশিং, আনুষ্কা ওয়াশিং, সততা ওয়াশিং, চঞ্চল ওয়াশিং, আব্দুর রব ওয়াশিং, ঢাকা ওয়াশিং, আজান ওয়াশিং, নিউ সাহারা ওয়াশিং, দোহার ওয়াশিং, রিলেটিভ ওয়াশিং, নিউনাশা ওয়াশিং, ইউনিক ওয়াশিং, মৌ ওয়াশিং, সেতু ওয়াশিং, কোয়ালিটি ওয়াশিং, জোয়েনা ওয়াশিং, কালাম ওয়াশিং, ওয়াটার কালার ওয়াশিং, পারজোয়ার ওয়াশিং, জিএম ওয়াশিং, কুমিল্লা ওয়াশিং, আছিয়া ওয়াশিং ও লিলি ওয়াশিং।
আদালতে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে আমাতুল করিম, রিট আবেদনের পক্ষে মনজিল মোরসেদ ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান শুনানি করেন। মনজিল মোরসেদ বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক দুবার কারখানাগুলো বন্ধ করা হলেও তারা আবার কারখানা চালু করেছে। এ কারণে আবারও দূষণের শিকার হচ্ছে বুড়িগঙ্গা। তাই দূষণ ঠেকাতে এবার মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেই পর্যাপ্ত জনবল :হাইকোর্টে দাখিল করা পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলায় পরিবেশ দূষণ করার মতো হাজার হাজার শিল্পকারখানা থাকলেও অধিদপ্তরের ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে একজন উপপরিচালকের নেতৃত্বে মাত্র ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ রয়েছে। এই তিন কার্যালয়ের অধীনে অনেক শিল্পকারখানায় ইটিপি প্ল্যান্ট থাকলেও জনবলের স্বল্পতার কারণে ইটিপিগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখা নিশ্চিতে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক তদারক করা এবং দায়ী শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য পদ সৃষ্টি করে পর্যাপ্তসংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
