জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেছেন, মৌলবাদ রুখতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। নতুন প্রজন্মকে নেশা থেকে মুক্ত রাখতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে এ ধরনের কর্মকাণ্ডগুলো আমাদের হাতে নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ইসলামের জন্য বেশি কাজ করছেন। তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে তার মানবিকতার প্রমাণ দিয়েছেন। শুধু আশ্রয় দিয়েই নয় তিনি ভাষানচরে এসকল রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য আধুনিক জীবন যাপনেরও ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়াও তিনি ঘাট এলাকায় লঞ্চ, স্পিডবোট, হোটেল ব্যবসাসহ নানা খাতে কর্মরতদের পদ্মা সেতুর পর্যটনে সম্পৃক্ত করার কথা বলেন। যাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়।
সোমবার (৪ জানুয়ারি) সকালে শিবচরে পদ্মা নদীতে ভ্রমণতরীর শুভ উদ্বোধনকালে চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী একথা বলেন।
চিফ হুইপ আরো বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পদ্মা সেতুকে ঘিরে পর্যটন খাতে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই আপনারা সুখবরগুলো পাবেন। পর্যটন উপভোগ করতে যেন সারা বাংলাদেশ থেকে মানুষ শিবচরে আসে। ইতিমধ্যে শিবচরের চরা লে ১২শ একর জায়গায় দুগ্ধ খামারের কাজ সেনাবাহিনীর তত্বাবধায়নে শুরু করেছে। এতে একসাথে কর্মসংস্থান ও পর্যটনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এর আগে, বেলা ১১টায় শিবচর শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে চিফ হুইপ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও ব্যবস্থাপনায় নদী ভিত্তিক পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে ''জেলা প্রশাসনের উদ্ভাবন, জেলে নৌকায় পর্যটন'' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে ভ্রমণতরী উদ্বোধন করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, শিবচরের চরা লের জেলেদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও পর্যটনের বিকাশ সাধনে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে জেলেদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া পদ্মা নদী ও এর চরা লের সৌন্দর্য সহজেই উপভোগ করতে পারবে ভ্রমণ প্রেমীরা। নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে পদ্মা সেতু দেখতে পাবে তারা। আশাকরি পর্যটকরা পদ্মা সেতু ও মুক্তিযুদ্ধের অসংখ্য ভাস্কর্য সমৃদ্ধ শিবচরের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত হবে।
এসময় চিফ হুইপের সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: খায়রুল আলম সুমন, শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান আ: লতিফ মোল্লা, পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান, শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: আসাদুজ্জামান, সহকারী কমিশনার ভূমি এম রকিবুল হাসান প্রমুখ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পদ্মাসেতু সংলগ্ন শিবচরের কাঁঠালবাড়ী পদ্মানদীতে ভ্রমণপ্রেমিদের জন্য নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চারটি নৌকা নামানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে শিগগিরই নদীতে কমপক্ষে ২০টি নৌকা নামানো হবে। এসব নৌকার মালিক স্থানীয় জেলেরা। যারা মাছ ধরার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য পদ্মানদীর সৌন্দর্য দেখানোর ‘সেবা’য় আগ্রহী তারা ১০-১৫ জন যাত্রীর ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী একেকটি নৌকা তৈরি করে নদীতে নামাবে। নৌকাগুলো দেখতে সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করা হবে। যাত্রীরা নৌকা ভ্রমণে যাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তেমন উপযোগী করে নৌকা তৈরি করা হচ্ছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য জেলা প্রশাসন নৌকার ভাড়া নির্ধারণ করে দেবেন। নৌকাগুলোতে লাইফ জ্যাকেটসহ ভ্রমণ এলাকাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়। এছাড়া আগামীতে পর্যটকদের সুবিধা ও নিরাপত্তা জোরদার নিশ্চিতে এক ধরনের অ্যাপস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানা গেছে। পদ্মাসেতু সংলগ্ন নদী কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের অগ্রসরে নৌকার ট্রাকিংয়ের জন্য অ্যাপস থাকবে। পর্যটকদের নিয়ে নৌকায় নদীর কোথায় যাচ্ছে তা জানা যাবে। এবং অ্যাপসের মাধ্যমে পর্যটকগণ নৌকার খোঁজ খবর রাখতে পারবেন। এদিকে মাছ ধরার পাশাপাশি জেলেরা পর্যটকদের সেবা দেবার মাধ্যমে বাড়তি উপার্জন করতে পারবে। এতে করে তাদের জীবনমান উন্নত হবে বলে আশাবাদী জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা।
ইত্তেফাক/এমএএম
