টুইটারের পক্ষে এই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৭:২৪

যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপ্রীতিকর মন্তব্যের এক ভিডিও ফেসবুক এবং টুইটার বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। তার আগেই ক্যাপিটাল হিলে হামলা করে বসে ট্রাম্পপন্থীরা। এতে নারীসহ চারজন নিহত হন।

ভিডিওতে করা ট্রাম্পের মন্তব্যই তার ভক্তদের এই হামলায় মূল উস্কানিমূলক বার্তা হিসেবে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন ‘কারা আলিমো’। মার্কিন সম্প্রচার মাধ্যম সিএনএন তার একটি মতামত প্রকাশ করে। ‘কারা আলিমো’ আমেরিকান প্রেসিডেন্সির স্টাডির কালিকো সেন্টারের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য।

তিনি বলেন, ‘ভিডিওতে ট্রাম্প ২০২০-এর নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন। মুহূর্তেই অনেক সমর্থকদের রিপ্লাই আসে। টুইটার প্রথমে সেসব রিপ্লাইকে বন্ধ করে রাখে। পরে অন্যান্য টুইটগুলোর পাশাপাশি সেগুলোকেও সরিয়ে ফেলে। এর পরেই ট্রাম্পের টুইটার প্রথমবারের মত লক করে দেয় টুইটার। ইতোমধ্যে, ফেসবুক এবং ইউটিউব, দুই জায়গা থেকেই ট্রাম্পের সেই ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু যে আকস্মিক ঘটনা তার সমর্থকেরা ঘটিয়ে ফেলেছেন তার ক্ষতি আর কোনভাবেই পোষানো সম্ভব নয়। কারণ পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে অনেক দেরিতে। টুইটারের উচিৎ ছিল প্রথম থেকেই ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখা। ২০১৬ সালেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় পাওয়ার পেছনের মূলে ছিল তার টুইটারে অনেক বেশি তথ্য শেয়ার করা। কিন্তু তার মধ্যে প্রায় সবই ছিল মিথ্যা।’ 

‘ওয়াশিংটন পোস্টের’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প দিনে প্রায় গড়ে ১২টি করে মিথ্যে তথ্য পোস্ট করতেন। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, ট্রাম্পের ২০ হাজার মিথ্যে তথ্য ছড়াতে সময় লেগেছে মাত্র ৪৪০ দিন।  

কারা আলিমো আরো বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো শুরু থেকেই ট্রাম্পের সব উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড নজরদারিতে রাখা উচিৎ ছিল। যখন তিনি প্রথমেই অনেক বাজে ভাষা ব্যবহার করতেন, মিথ্যে তথ্য দিতেন, তার করা পোস্টগুলো সঙ্গে সঙ্গেই সরিয়ে দেওয়া উচিৎ ছিল। পাশাপাশি তাকে সতর্ক করা যেত পরবর্তীতে এমনটি না করার জন্য। তারপরেও যদি তিনি তার এই কাজ চালিয়ে যেতেন তাহলে তার অ্যাকাউন্ট একবারেই বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ ছিল। যদি এমনটা হতো তাহলে হয়তো আজ যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থা হত না।’

ইত্তেফাক/এনএসএন/জেডএইচ