কামারখন্দের চর ভদ্রঘাট এলাকায় ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ফসল আবাদ। এদিকে বাজার ভদ্রঘাট হালদারপাড়া এলাকায় ফসলি জমির টপ সয়েল কাটার খবর পেয়ে গত বুধবার একটি জায়গায় মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয়রা জানান, মাটি বোঝাই ট্রাক গ্রামীণ সড়ক নষ্ট করছে। এছাড়া ধুলাবালিতে দুর্ভোগে পোহাচ্ছেন তারা।
চর ভদ্রঘাটে ফসলি জমি থেকে টপ সয়েল কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও কয়েক জন ট্রাক শ্রমিক জানান, এসব ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। চর ভদ্রঘাট এলাকার কৃষক জামাল শেখ জানান, চর ভদ্রঘাট এলাকার প্রায় তিন বিঘা জমির মাটি কেটেছে কয়াবিলের গোলাম রব্বানী। আরো মাটি কাটার জন্য জমি কিনেছেন তিনি।
রায়গঞ্জ উপজেলার কয়াবিল গ্রামের গোলাম রব্বানী জানান, উঁচু জমি সমান করে ধান লাগানোর জন্য জমির মালিকের সঙ্গে কথা বলে মাটি কাটা হচ্ছে। আমি কয়েক ট্রাক মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করেছি। আমার মাটির পয়েন্ট চলবে কয়েক দিন। বাজার ভদ্রঘাটের পল্লি চিকিত্সক আবু সামা জানান, ফসলি জমি থেকে আমাদের মাটি কাটা শেষ।
ভদ্রঘাট ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি উজ্জ্বল খান জানান, আমি আমার নিজস্ব জমি থেকে মাটি কেটেছি। জমিটি উঁচু-নিচু থাকার কারণে মাটির টপ সয়েল কেটে আমার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছি। অনুমতি না থাকায় মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের অনুমতি পেলে মাটি কাটা আবারও শুরু করব। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, ফসলি জমি থেকে টপ সয়েল কাটলে সে সমস্ত জমিতে ফসলের ফলন ভালো হবে না। টপ সয়েল কাটার পর ঐ জমি আবাদযোগ্য করতে কমপক্ষে ৮-১০ বছর সময় লাগতে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা সুলতানা জানান, ইতিমধ্যে বাজার ভদ্রঘাট এলাকায় একটি ফসলি জমি থেকে টপ সয়েল কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যারা ফসলি জমির টপ সয়েল কাটার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এমআর
