তাঁর দৃষ্টিতে সমাজের ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবাই সমান
বাংলা প্রথমপত্র
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন
সিনিয়র শিক্ষক, বাংলা
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন
১. নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হ’য়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান,
যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-ক্রীশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!
কে তুমি? পার্সী? জৈন? ইহুদী? সাঁওতাল, ভীল, গারো?
কন্ফুসিয়াস? চার্বাক-চেলা? ব’লে যাও, বলো আরো!
ক.‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে? ১
খ. ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে তথাকথিত ‘ছোটলোক’ সমপ্রদায় বলতে কাদেরকে বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ২
গ. উদ্দীপকে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ. উদ্দীপকটি ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের সমগ্র ভাব বহন করে না- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। ৪
ক. ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘নজরুল রচনাবলী’ থেকে নেওয়া হয়েছে।
খ. ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে তথাকথিত ছোটলোক সমপ্রদায় বলতে অবহেলিত, অনাদৃত, বঞ্চিত ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল লোকদেরকে বোঝানো হয়েছে।
আমাদের সমাজের উঁচু শ্রেণির লোকেরা তাদের এ নামকরণ করেন। তাদেরকে সব সময় ঘৃণা ও অবহেলার চোখে দেখেন। অথচ এ মানুষদের মন স্বচ্ছ এবং উদার। তাদের শ্রম ব্যতীত দেশের কোনো কল্যাণকর কাজ সাধিত হয় না। তাদেরকে বাদ দিয়ে দেশে গণতন্ত্র গঠিত হতে পারে না।
গ. উদ্দীপকে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের অসামপ্রদায়িকতা ও সাম্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে সাম্যবাদী ও অসামপ্রদায়িক মনোভাব নিয়ে বঞ্চিতদের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, দেশে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা চাইলে ছোট-বড়, উঁচু-নিচু, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ দূর করা খুবই দরকার।
উদ্দীপকে সাম্যের গান গাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের লোক এক হয়ে গেলে কোনো বাধা-বিপত্তি থাকবে না। একজন লোক কোন শ্রেণির, কোন ধর্মের বা কোন জাতির তা এখানে বড় হয়ে ওঠেনি। এখানে ব্যক্তির বিশেষ পরিচয়কেও প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। শুধু দেখানো হয়েছে সাম্যের জয় আর অসামপ্রদায়িক মনোভাব। ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধেও আমরা নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী মানসিকতার এক চমত্কার চিত্র দেখি। তাঁর দৃষ্টিতে সমাজের ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবাই সমান। জাতি-ধর্ম-বর্ণে কোনো বিভেদ তিনি মানেন না। যারা সমাজে একটু নিচু অবস্থানে আছে তাদের কায়িক শ্রমেই উঁচু শ্রেণির লোকেরা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটায়। তাদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের ফল ভোগ করে সমাজের তথাকথিত সেই ভদ্রলোকগুলো। এ পরিশ্রমী লোকেরা যখন নিজেদের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হয়, তখন এ ভদ্র সমপ্রদায় এদেরকে আঘাত করে, নিষ্পেষিত করে দিতে চায়। লেখক সমাজের এ বঞ্চিত লোকদেরকে ঘৃণা না করার আহ্বান জানান। অর্থাত্ আলোচ্য প্রবন্ধ এবং উদ্দীপকের সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো সাম্যবাদী ও অসামপ্রদায়িক মানসিকতা বর্ণনায়।
ঘ-এর উত্তর আগামীকাল
