ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের মিটাইন গ্রাম এলাকায় মধুমতি নদীতে একই স্থানে ছয়টি ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী এক ইটভাটা মালিক। এছাড়াও ঐ এলাকার বিভিন্ন ফসলি জমি থেকেও ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ট্রলিতে করে নেওয়া হচ্ছে ঐ ইটভাটায়। যে ইটভাটায় বালু নেওয়া হচ্ছে সেটির কোনো অনুমোদন নেই বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইটভাটা মালিক স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকায় ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। জানা যায়, ছয়টি ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের এই কাজ করছেন ঐ এলাকার এম এম কে বি ব্রিকসের মালিক মিটুল মোল্লা। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে তিনি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। সরেজমিনে সোমবার দুপুরে মিটাইন ঘাট সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ২৫ জন শ্রমিক বালু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। পাইপের মাধ্যমে বালু ঘাট সংলগ্ন এলাকায় এবং কয়েকশ গজ দূরে সামাদ ফকিরের বাড়ির বিপরীত পার্শ্বে রাখা হচ্ছে। মাঝিবাড়ি-রায়জাদাপুর সড়কের ওপর বাঁধ দিয়ে পাইপ নেওয়া হয়েছে, সড়কের ওপর বাঁধ দেওয়ায় সড়কের কিছু অংশ ধসে গেছে। চারপাশে ফসলি জমি ও বাড়িঘর, তার মধ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে ইটভাটা। ফসলি ক্ষেতের মধ্যে ইট রাখা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগে বলেন, মিটুল মোল্লার ইটভাটা এম এম কে বি ব্রিকসেরও অনুমোদন এখনো পায়নি। সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করে অবৈধভাবে এই ভাটা চালাচ্ছে আবার অবৈধভাবে নদী থেকে বালুও উত্তোলন করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েকবছর যাবত্ মিটাইন গ্রামে কৃষি জমিতে এম এম কে বি নামে একটি ইটভাটা স্থাপন করেন মিটুল মোল্লা। ইটভাটা চালুর সময় থেকেই ঐ এলাকার বাসিন্দারা ইটভাটা স্থাপনে বাধা দেয়। কিন্তু ঐ সময় মিটুল মোল্লা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ইটভাটা নির্মাণ করেন। ইটভাটা চালু হওয়ার পর ট্রলিতে মাটি আনা নেওয়ার কারণে মাঝিবাড়ি-নওপাড়া সড়ক দিয়ে চলাচলকারীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ বলেন, কৃষি জমিতে ইটভাটা করা হয়েছে। ধোয়া এবং ধুলার কারণে আমরা এলাকায় বসবাস করতে পারছি না। আমরা কিছু বললে ধমকি দেওয়া হয়। এ কারণে চুপ করে থাকি। এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানিয়া তাবাচ্ছুম বলেন, খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে, মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তফা মনোয়ার বলেন, উপজেলাতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার কোনো সুযোগ নেই। এটি বন্ধ করা হবে।
এম এম কে বি ব্রিকসের মালিক মিটুল মোল্লা অভিযোগের বিষয়ে বলেন, বাড়ি করার জন্য নদীতে ছয়টি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছি। কাজটা অবৈধ তা স্বীকার করছি। ইটভাটার ভাটার অনুমোদন আছে দাবি করলেও কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
