সরকারি টাকা খরচে সবাইকে সতর্ক হতে হবে :পরিকল্পনামন্ত্রী

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৩৬

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জনশুমারি প্রকল্প নিয়ে বলেছেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য এবার মাথাপিছু ১১০ টাকা করে খরচ হচ্ছে। যেহেতু শুমারি ১০ বছর পরপর করা হয়, সেহেতু প্রত্যেক বছরে ১০ টাকা করেও খরচ হয় না এক জন নাগরিকের জন্য। কিন্তু প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের সময় মনে হয়, মাথা গণনা করতে বিশাল টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ১০ বছর পরপর করা শুমারি মাসে এক থেকে দেড় টাকা খরচ হয়। আমার মনে হয় মাস, বছর হিসেব করলে এটা ঠিক আছে। তারপরও সরকারি টাকা খরচে সবাইকে সতর্ক হতে হবে।

গতকাল সোমবার আগারগাঁওস্থ বিবিএস ভবনের মিলনায়তনে জোনাল অপারেশন (প্রথম) প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর জনশুমারির মূল শুমারি অনুষ্ঠিত হবে। এই এক সপ্তাহে সারা দেশের মানুষকে গণনার আওতায় আনা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কোভিডজনিত কারণে আমরা শুমারির কাজটা       ১০ মাস পিছিয়েছি। এজন্য সরকার প্রধান থেকেও অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। কাজটি সঠিকভাবে না হলে এ বিভাগে নিয়ে সবার মনে প্রশ্ন জাগবে। এজন্য যথাযথ উন্নয়ন করতে সবাইকে সঠিক সময়ে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মালামাল ক্রয়ের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের বর্তমান সচিব এখানে নতুন, আমিও নতুন। বিবিএসে কিছু কিছু কেনাকাটা করা হয়েছে গত তিন বছর আগে। ঐ জিনিসগুলো স্টোরেজ করা আছে এবং এই মালামাল ব্যবহারের জন্য সচিব ও ডিজিকে অনুরোধ করছি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন প্রকল্প পরিচালক কবীর উদ্দিন।

সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, জনশুমারি প্রকল্পে আমরা ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করছি। কৃষি শুমারিতে কাগজ-কলম ব্যবহার করতে গিয়ে ১৩ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে। কেননা অনেক কাগজ নষ্ট হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অনেক দেনদরবার করে এই টাকা পাশ করতে হয়েছিল। এরকম ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে আমরা সতর্ক রয়েছি। বিগত আদম শুমারির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১১ সালের আদমশুমারিতে আমাকেই গণনা করা হয়নি।

প্রকল্প পরিচালক কবির উদ্দিন বলেন, জিআইএস পদ্ধতি ব্যবহার করে দেশের সব এলাকা ম্যাপ ও জিও কোডের আওতায় শনাক্তকরণের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে। শুমারি পরিচালনা দেশের সব খানা, ব্যক্তি এবং আবাসন ইউনিট গণনা করা হবে।