বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আফসার হোসেন সিকদার (৫১) নামে এক কর্মী নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এদিকে, ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী জিয়াউল হক জিয়ার নেতৃত্বে তার অনুসারীরা ব্যবসায়ী হারুনের উপর হামলা করেছেন। এতে গুরুতর জখম হন তিনি। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়ী কাউন্সিলর তরিকুল ইসলাম (৪৫) হত্যার ঘটনায় সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। রবিবার রাতে নিহতের ছেলে একরামুল হক হূদয় বাদী হয়ে পরাজিত প্রার্থী ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন বুদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় আরো ৪০/৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
বরিশাল অফিস ও মেহেন্দীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, আফসার হোসেন সিকদার নিহতের ঘটনায় মামলা দায়েরসহ যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বরিশালের পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন। আফসারের ছেলে রাসেল সিকদার জানান, তার বাবা আফসার মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী নূর মোহাম্মদ জোমাদ্দারের পক্ষে কাজ করছিলেন। তার পক্ষ ত্যাগ করে প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য গত শনিবার ঐ প্রার্থীর কর্মীরা আফসারকে হুমকি দেন। এর জের ধরে পরদিন রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে মেহেন্দীগঞ্জ পৌর শহরের পাতারহাট আরসি কলেজের সামনে প্রতিপক্ষের লোকজন আফসারের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। চিকিত্সাধীন অবস্থায় শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষকে দায়ী করে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আফসারের পরিবার। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আফসারকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী নূর মোহাম্মদ জমাদ্দার। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে এলাকাবাসী আফসার হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বক্তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
দাগনভূঞা (ফেনী) সংবাদদাতা জানান, হামলায় হারুনের একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ফেনী সদর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। এ ব্যাপারে হারুন বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানা গেছে।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মামলার পর অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ২৭ নম্বর আসামি স্বপন ব্যাপারীকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়। অন?্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
