ওটিটি প্ল্যাটফরম নিয়ন্ত্রণে খসড়া নীতিমালা করে দাখিলের নির্দেশ

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০০:৩৫

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ওভার দ্য টপ (ওটিটি) প্ল্যাটফরম-নির্ভর কনটেন্ট প্রচারের ওপর তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে একটি খসড়া নীতিমালা করতে বলেছে হাইকোর্ট। তথ্য সচিব ও বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে তিন মাসের মধ্যে ঐ খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করে তা আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিটিআরসি ও সিআইডি পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি জানান রিটকারী আইনজীবী তানভীর আহমেদ।

এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক বিটিআরসি ও সিআইডির পক্ষ থেকে ওটিটির ওপর দুটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এর মধ্যে বিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো ওটিটি প্ল্যাটফরমের সঙ্গে বিটিআরসির কোনো চুক্তি হয়নি এবং আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফরমগুলো বিটিআরসির লাইসেন্সপ্রাপ্তও নয়। বিটিআরসি এসব ওটিটি থেকে কোনো রাজস্ব সংগ্রহ করে না। ফলে আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফরমের ওপর বিটিআরসির কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা আরোপের সুযোগ নেই।

সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওটিটি-নির্ভর এ ধরনের প্ল্যাটফরমের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে—এসব প্ল্যাটফরম কোনো টেরিস্ট্রিয়াল চ্যানেল ব্যবহার না করে সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কোনো ধরনের কনটেন্ট সরাসরি দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। ফলে একজন দর্শক কোনো ধরনের ক্যাবল অথবা ডিশ অ্যান্টেনা ছাড়াই শুধু ইন্টারনেট এবং স্মার্ট টিভি/ফোন ব্যবহার করে এসব ওয়েব কনটেন্ট দেখতে পারে। ফলে প্ল্যাটফরমগুলো বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব দেশেই দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বাংলাদেশের বাইরের এ ধরনের বেশ কিছু বিখ্যাত ওটিটি প্ল্যাটফরম হচ্ছে নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন, জিফাইভ, হটস্টার, উলু, আড্ডা, টাইমস এবং হইচই। এর বাইরেও শত শত অঞ্চলভিত্তিক ওটিটি প্ল্যাটফরম রয়েছে। এসব প্ল্যাটফরমে যে কোনো দেশের জনগণ সাবস্ক্রিপশন কেনার মাধ্যমে কনটেন্ট দেখতে পারে। শত শত ওটিটি-নির্ভর প্ল্যাটফরমে হাজার হাজার কনটেন্ট রয়েছে, যাতে এমন অনেক অনৈতিক বক্তব্য, ছবি ও ভিডিও রয়েছে, আমাদের দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

গত বছর একটি ইংরেজি দৈনিকে ওটিটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, নেটফ্লিক্স বছরে ১৮০ কোটি টাকা আয় করে বাংলাদেশের গ্রাহকদের কাছ থেকে। এ রকম প্ল্যাটফরম এখন অনেকগুলো আছে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে সরকার রাজস্ব আদায় করতে পারছে না। গত বছরের ১২ জুলাই এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়।