দুবলারচরের পাঁচটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র জরাজীর্ণ

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৪১

সাগরে বিলীন হওয়ার পথে একটি

পিরোজপুর অফিস ও শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

সুন্দরবনের দুবলার চরাঞ্চলের পাঁচটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একটি আবার বঙ্গোপসাগরে বিলীন হওয়ার পথে। ফলে ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস-দুর্যোগে নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো পাকা অবকাঠামো নেই দুবলারচরের হাজার হাজার শুঁটকি জেলের।

দুবলা ফিশার মেন গ্রুপের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসের নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে ১৫/২০ হাজার শুঁটকি জেলে দুবলার চরকে কেন্দ্র করে সাগরে মাছ ধরে। এর অধিকাংশ জেলে আলোরকোল, মাঝেরকিল্লা, অফিসকিল্লা, নারিকেলবাড়িয়া ও শ্যালারচরে অস্থায়ী ঘর করে মাছ শুঁটকি করার কাজে নিয়োজিত থাকে। সিডরসহ গত ৪০ বছরে ছোট-বড় অন্তত ১০টি ঘূর্ণিঝড় এসব দ্বীপে আঘাত হানায় এ সময়কালে দুই সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ বছর আগে বেসরকারি উদ্যোগে পাঁচটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মিত হয়। তিনি আরো বলেন, সাগরের ভাঙনে ১৯৯৬ সালে ইতালির কারিতাস সংস্থার নির্মিত মেহেরআলীচরের সাইক্লোন শেল্টারের মূল ভিত বের হয়ে দেওয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে। যা সাগরে বিলীন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। অফিসকিল্লা ও মাঝেরকিল্লার সাইক্লোন শেল্টার দুটি সিডরের আঘাতে ১৩ বছর আগে নড়বড়ে হয়ে যায়। এ দুটিসহ আলোরকোল ও শ্যালারচরের দুটিও জরাজীর্ণ হয়ে প্লাস্টার খসে খসে পড়ছে। আলোরকোল বন টহল ফাঁড়ির ওসি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ ভবনে তাদের স্টাফরা অবস্থান করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা শেল্টারটিতে অবস্থান করছেন। আলোরকোলে অবস্থানরত জেলেরা জানান, সাইক্লোন শেল্টারে এখন দুর্যোগের সময় আশ্রয় নেওয়া বিপজ্জনক বলে তারা নৌকা নিয়ে সুন্দরবনের ছোট ছোট খালের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজেন।

জেলে পল্লী দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহলাদ চন্দ্র রায় মুঠোফোনে বলেন, দুর্যোগের সময় তারাসহ জেলেরা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। অতি সম্প্রতি দুবলা অঞ্চলে আরো সাতটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের জন্য দুবলা ফিসারমেন গ্রুপ বাগেরহাট  জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছেন বলে ঐ কর্মকর্তা জানান।। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, দুবলারচরের সাইক্লোন শেল্টারগুলো জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।