দূষণ আর দখলে কাবু সাঙ্গু নদ

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৫৫

সাঙ্গু পার্বত্য জনপদ বান্দরবানের প্রধানতম নদ। এখানকার বাসিন্দাদের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সাঙ্গুর সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। এখনো জেলার অভ্যন্তরে অনেক মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নদীপথ। এছাড়াও অনেকের নিত্য ব্যবহারের পানির প্রধান উত্সও এটি। অবারিত সবুজ পাহাড়ের সঙ্গে মেঘেদের মিতালি, স্বচ্ছ পানির ঝরনা, বিশাল সব পাথর আর রোমাঞ্চ জাগানিয়া বিপজ্জনক সর্পিলাকার উঁচু-নিচু পাহাড়ি রাস্তার সঙ্গে শহরের মাঝখানে কিংবা দুই পাহাড়ের মাঝে স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে বয়ে চলা সাঙ্গু নদ উন্মোচন করেছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দ্বার।

কিন্তু নদটি দিন দিন দখল আর দূষণে হারাচ্ছে সৌন্দর্য। নদের ধারে মলমূত্র ত্যাগ, আবর্জনার স্তূপ আর বর্জ্য এবং পয়োনিষ্কাশনের সরাসরি লাইন সব মিলিয়ে মারাত্মক দূষণের শিকার। সেইসঙ্গে পরিত্যক্ত পলিথিন আর প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে নাব্যতাও হুমকির মুখে। এর সঙ্গে কতিপয় প্রভাবশালী মহল দ্বারা চলছে বালু উত্তোলন। কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদারকির অভাবে কাবু সাঙ্গু। কেবল বান্দরবান জেলা শহরের বাজার এলাকার অংশের অবস্থা  দেখলে দূষণ আর দখলের দৌরাত্ম্য স্পষ্ট হবে। একটা সময় শুষ্ক মৌসুমে নদের চর ছিল শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠ। স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই হাঁটা ও ব্যায়ামের জন্য ভিড় করতেন নদের ধারে। সেসব এখন অনেকটাই অতীত। ভরা বর্ষার পর নদের ধারে উর্বর পলি জমা হতো। তাতে অনেকেই বিভিন্ন ফসল বুনে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ময়লা-আবর্জনার কারণে এখন সেটাও কমে আসছে। নদের ধারের আবাসিক ও ব্যবসায়িক স্থাপনা থেকে বর্জ্য সরাসরি নদে ফেলা হচ্ছে। সাঙ্গু নদের মাছের বৈচিত্র্য কমে আসছে। শহরে পুকুরের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সাঙ্গুর পানি শহরের অনেক খাবার হোটেলেও ব্যবহার করা হচ্ছে! ফলে খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে।

পাহাড় কন্যা বান্দরবানের অফুরন্ত সম্ভাবনার পর্যটনশিল্পকে গতিশীল ও টেকসই করতে সাঙ্গু নদকে দখল ও দূষণের কবল থেকে মুক্ত এবং নিয়ন্ত্রণহীন বালু উত্তোলন রোধ করতে আশু কার্যকর পদক্ষেপ কাম্য।

আবু ফারুক

সহকারী শিক্ষক, ভাগ্যকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর, বান্দরবান