ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর ছবি বা পরিচয় হরহামেশাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। যদিও বিদ্যমান আইনে এ বিষয়ে কঠোরভাবে বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি শাস্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আইনের বিধান লঙ্ঘন করে ধর্ষণের শিকার মৃত বা জীবিত নারী বা শিশুর ছবি বা পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ভিকটিমের ছবি বা পরিচয় যেন প্রকাশ না করা হয় সেজন্য হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর ছবি এবং পরিচয় প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকার কলাবাগানে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন এক কিশোরী। ঐ ঘটনায় কিশোরীর নাম, পরিচয় ও ছবি বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে রিটটি করেন বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৪ ধারায় ভিকটিমের ছবি ও পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধানিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু আইনের এই বিধান উপেক্ষা করেই ভিকটিমের ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে ভিকটিম ও তার পরিবার সামাজিকভাবে হেয় হচ্ছে। এ কারণে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনে বর্ণিত অপরাধের শিকার হয়েছেন এইরূপ নারী বা শিশুর ব্যাপারে সংঘটিত অপরাধ বা তত্সম্পর্কিত আইনগত কার্যধারার সংবাদ বা তথ্য বা নাম-ঠিকানা বা অন্যবিধ তথ্য কোনো সংবাদপত্রে বা অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে এমনভাবে প্রকাশ বা পরিবেশন করা যাবে যাতে উক্ত নারী বা শিশুর পরিচয় প্রকাশ না পায় । (২) উপধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করা হলে উক্ত লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের প্রত্যেকে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। রিটে আইনের এই বিধান প্রতিপালনের লক্ষ্যে গণমাধ্যমের প্রতি নির্দেশনা জারি করতে হাইকোর্টে আবেদন জানানো হয়েছে। রিটে আইনসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, তথ্যসচিব ও প্রেস কাউন্সিলকে বিবাদী করা হয়েছে। রবিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এ রিটের শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী ।
এর আগে ২০১৯ সালে এক রায়ে আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলার শিশু আসামির ছবিসহ তার পরিচিতি গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করা যাবে না বলে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিচারের আগে, বিচার চলাকালে এবং বিচারের পর সংশ্লিষ্ট শিশু সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। শিশুর পরিচয় প্রকাশ পায় বা তাকে চিহ্নিত করা যায় এমন কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না বলে ঐ রায়ে বলা হয়। আদালতের রায়ে বলা হয়, প্রতিবেদনে শিশুকে অপরাধী, আসামি, সাজাপ্রাপ্ত এসব শব্দ লেখা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট মামলায় রায়ের পর দোষী প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা যাবে। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালত বলে, আজকের একটি শিশুকে ভবিষ্যত্ জীবনে যাতে কোনো কলঙ্ক বহন করতে না হয়, সেটা বিবেচনা করেই এই নির্দেশনা দেওয়া হলো।
