মৌসুমি

মাঘের বৈচিত্র্য

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২১, ১৮:২১

প্রভাতে কুয়াশায় ঢেকে থাকে পথঘাট, নদীতীর আর সবুজ পথের বাঁক। দুপুর হতেই দেখা মেলে রোদের—এই তো মাঘ। ভোর হয়ে গেলেও শীতের আলসেমিতে পেয়ে বসে অনেককেই। মাঘের শীত বোঝে শুধুই রোদেলা সেঁক দেওয়া আর কখনোবা আগুন পোহানো।

এই মাঘেই কোথাও কোথাও আমগাছগুলোতে বোল ধরা শুরু করে। রোদ উঠলেই এ সময় পাড়ার মোড়ে ফাগ আর গুলাল নিয়ে বসে যায় দোকানিরা। কচি বাঁশপাতা সবুজের মতো মুচমুচে ফুরফুরে কাঁচার দল যেন রঙিন রঙিন। শুধু কী ওরা!  মধ্য যুবক আর বৃদ্ধরাও তো রঙিন হতে শুরু করে মাঘে।

মাঘের শীতে কুয়াশা দেখা, কুয়াশায় পথ খুঁজে না পাওয়া, সেও এক বৈচিত্র্য। মাঘে জমে ওঠে কত না মেলা। মাঘমেলায় প্রতিদিনের অনুষ্ঠানসূচিতে থাকে বাউল, সুফি, সত্যপীরের পাঁচালি গান। লোকায়ত নৃত্য, কীর্তন, কবিগান, রাইবেশে, আলকাপের আসরও বসে। আর দেখা যায় বহুরূপীদের সমাবেশ। এই মেলায় ফসলের খেত থেকে উত্পাদিত ফসলসম্ভারে সেজে ওঠে প্রদর্শনী। এ সময় নিকটবর্তী গ্রামের উন্নত কৃষিজসামগ্রী জমা দিয়ে সেরা চাষিকে পুরস্কৃত করার রেওয়াজও চালু আছে। স্বনির্ভরগোষ্ঠীর মেয়েদের হাতে বানানো পাঁপড়, আচার, বিভিন্ন মুখরোচক খাদ্যদ্রব্যসহ গ্রামীণ শিল্পীদের তৈরি মাটির কুঁজো, সরা, বিভিন্ন ধরনের মূর্তি, বাঁশ ও বেতের বোনা ধামা, কুলো, মোড়া, চেয়ার-টেবিল ও বিভিন্ন শৌখিন জিনিস বিক্রি হয়।

এই মাঘে কানে ভেসে আসবেই সেই পরিচিত গান: ‘দেশ-বিদেশের মানুষ গো যাও কুষ্টিয়া ঘুরে।’ চায়ের কাপে তুফান তুলে মেলায় চক্কর দেওয়ার সেরা সময় এই মাঘ মাসই।

লিয়াকত হোসেন খোকন