এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এলিনা শাম্মি সমানতালে কাজ করছেন নাটক ও চলচ্চিত্রে। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি গল্প নির্ভর ছবিতে কাজ করে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ‘জানোয়ার’ ছবিটি। উপস্থাপনা থেকে অভিনয়, কেমন ছিল তার এই জার্নি। এ প্রসঙ্গের পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ার ও চলচ্চিত্রের নানা বিষয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে আপনার ‘জানোয়ার’ চলচ্চিত্রটি। আপনার চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা কতটা চ্যালেঞ্জর ছিল?
‘জানোয়ার’ চলচ্চিত্রটি একটি সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত। এ ধরনের চরিত্রে কাজ করা সত্যিই খুব চ্যালেঞ্জের। শুধু আমার জন্য নয়, সকলের জন্যই চ্যালেঞ্জের ছিল। তবে আমি মনে করি সকলের পরিশ্রম আর চেষ্টায় সন্দুরভাবে গল্পটি রূপ দিতে পেরেছি। ছবিটি মুক্তির পর দর্শক প্রতিক্রিয়ায় কিন্তু আমরা সেটা বুঝতে পারছি।
ছবিটি হলে মুক্তি না দিয়ে শুধু ওটিটি প্লাটফর্মে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। প্রচারণাও তেমন নেই বললে চলে। এটি কতটা ইতিবাচক বলে মনে করেন?
করোনার এই সময়ে হলে মুক্তি দিলেও যে দর্শকরা হলে এসে ছবি দেখছেন তেমন কিন্তু না। তার চেয়ে বরং ওটিটিতে মুক্তি দেওয়ায় তারা ঘরে বসে ছবিটি দেখতে পাচ্ছেন। তাছাড়া আমি মনে করি জানোয়ার ছবিটির গল্প ও নির্মাণের প্রতি দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ কিন্তু রয়েছে। সে কারণেও তারা ছবিটি দেখছেন এবং দেখবেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ মানুষ ছবিটি দেখছেন। এটা অনেক বড় সাফল্য আমাদের জন্য। আর প্রচারণার বিষয়ে বলবো, আমরা তো আর্টিস্ট, সেক্ষেত্রে আমাদের জায়গা থেকে যতটুকু করার করেছি। তাছাড়া যেহেতু এটি একটি অ্যাপস থেকে রিলিজ পেয়েছে সেহেতু প্রচারণার দায়িত্ব কিন্তু তাদের। তবে এই মাধ্যমে তারা নতুন বলে হয়তো এই বিষয়টি বুঝতে পারেননি।
উপস্থাপনা দিয়ে আপনার ক্যারিয়ার শুরু। তারপর অভিনয়ে এসেছেন। মাধ্যম পরিবর্তনের কারণ কী?
আসলে সবাই চায় নিজের কাজের মান উন্নত করতে। কিন্তু আমদের দেশের চ্যানেলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে একই মানের বা একই ধাঁচের অনুষ্ঠান নির্মিত হচ্ছে। কোনো পরিবর্তন নেই। বলতে পারেন, এখানে নিজেকে প্রকাশ করার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও উপস্থাপনায় আমি ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেভাবে সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তবে অভিনয়ের ক্ষেত্রে নিজেকে ভেঙে গড়ার সুযোগ রয়েছে। উপস্থাপনা করে অনেক উঁচু স্থানে চলে গেছেন এমন মানুষও কিন্তু হাতেগোনা, তবে অভিনয়ে সাফল্য পেয়েছেন এমন মানুষ অনেক রয়েছে। সে কারণেই অভিনয়ে আসা।
অভিনয়ে এসে উপন্থাপনায় অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। তাহলে নায়িকা হতেই উপস্থাপনায় আসা?
না, বিষয়টি আসলে তেমন না। তবে এটাও স্বীকার করছি যে, উপস্থাপনায় এসেই কিন্তু আমি অভিনয়ে সুযোগ পেয়েছি। তাছাড়া এখানে আর্থিক নিশ্চয়তার পাশাপাশি সৃজনশীল কাজের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে পারছি। নিজের প্রতিভা দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে শিল্পবোধের জায়গাটাও ধরে রাখতে পারছি। মূলত এই কারণেই অভিনয়ে স্থায়ী হওয়া। তবে উপস্থাপনা একেবারে ছেড়ে দিয়েছি এমন না। বিশেষ দিবসে এখনো উপস্থাপনা করছি।
আপনি চলচ্চিত্র ও নাটক দুই মাধ্যমেই কাজ করছেন। নিজেকে কোন মাধ্যমটির জন্য যোগ্য মনে করেন?
আমি আসলে পর্দা বিভাজনকে সেভাবে দেখি না। এখন কিন্তু বড়পর্দাও হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। যদি এমন চরিত্র পাই যেটা আমার সঙ্গে যায়, আমি সে ধরনের চরিত্রেই কাজ করতে চাই। সেটা যে মাধ্যমেই হোক। তবে কর্মাশিয়াল যে ঘরানা রয়েছে, নাচ-গানে ভরপুর এমন কাজের জন্য আমি পারফেক্ট নই। তাই সেখানে থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি। আমি গল্প নির্ভর কাজ করতে পছন্দ করি। চরিত্রের সঙ্গে, অভিনয়ের সঙ্গে থাকতে চাই।
ইন্ডাস্ট্রিতে নতুনদের প্রতিষ্ঠা পেতে কেমন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়?
সব কাজই কিন্তু নানা প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে করতে হয়। আর এটাকে আমি প্রতিষ্ঠা বলবো না, এখানে আসলে টিকে থাকা শিখতে হয়। টিকে থাকতে হলে অভিনয় জানতে হয়। অভিনয় জানার সঙ্গে সঙ্গে শেখার আগ্রহ, বিনয় থাকাটাও জরুরি। কাজের ক্ষেত্রে সততা থাকলে নিশ্চয় টিকে থাকা সম্ভব।
