ফিরেই ম্যাচ-সেরা সাকিব

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৫৭

জান-ই-আলম

দিনের হিসেবে ৪৮৫, নেহায়েত কম সময় নয়। এর মধ্যে পৃথিবীকে গ্রাস করেছে করোনা মহামারি, বুড়িগঙ্গায় অনেক জল গড়িয়েছে। কিন্তু ২২ গজে সাকিব আল হাসানের পারফরম্যান্সে কোনো হেরফের নেই। লম্বা বিরতির কোনো প্রভাব নেই। আগের মতোই চ্যাম্পিয়ন, অপ্রতিরোধ্য ‘চরিত্র’ বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার।

চট্টগ্রামে ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-২০ তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের শেষ ম্যাচটা খেলেছিলেন তিনি। ম্যাচে ১ উইকেট ও অপরাজিত ৭০ রানে ম্যাচ-সেরা হয়েছিলেন সাকিব। আইসিসির নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গতকাল ফিরলেন চেনা মঞ্চে। মিরপুর স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও সেই আগের মতো ক্ষুরধার সাকিব। এবারও ম্যাচ-সেরা এই অলরাউন্ডার। গতকাল বল হাতে ৭.২ ওভারে ২ মেডেনসহ ৮ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে ১৯ রান করেছেন তিনি।

সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্যেই গতকাল সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে খর্ব শক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬ উইকেটে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। জয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন হলো বাংলাদেশের। তামিমের নেতৃত্বের যুগ, ওডিআই সুপার লিগে বাংলাদেশের শুরুটাও পেল জয়ের স্বস্তি।

কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে টস জিতে বাংলাদেশের বোলিং করার সিদ্ধান্তটা অনুমিতই ছিল। মুস্তাফিজের শুরুর ধাক্কার পরই দৃশ্যপটে সাকিবের বাঁহাতি স্পিন। যার জবাব ছিল না ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের কাছে। ম্যাককার্থিকে বোল্ড করে সাকিবের শিকার উত্সব শুরু। পরে জেসন মোহাম্মেদ, এনক্রুমা বনারকে ফেরান তিনি। আলজারি জোসেফকে বোল্ড করে সফরকারীদের ইনিংসটা শেষ করে দেন সাকিব। ৩২.২ ওভারে ১২২ রানে গুটিয়ে যায় উইন্ডিজরা।

গতকাল বল হাতে অভিষিক্ত হাসান মাহমুদও তোপ দাগিয়েছেন। ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন এই ডানহাতি ফাস্টবোলার। মুস্তাফিজ ২টি, মিরাজ ১টি উইকেট পান। ব্যাটিংয়ে চারে নেমে ১৯ রান করেছেন সাকিব। আকিল হোসেনের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন তিনি। তামিম ৪৪, লিটন ১৪, মুশফিক অপরাজিত ১৯, মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ৯ রান করেন। ৩৩.৫ ওভারে ৪ উইকেটে ১২৫ রান তুলে জয় পায় বাংলাদেশ।

দেশের মাটিতে নিজের শততম ওয়ানডে ম্যাচে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে খুশি সাকিব। গতকাল ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘আমার কাছে গুরুত্ব বহন করে আমি দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করি, কীভাবে করি। সেদিক থেকে খুশি। ম্যাচটা শেষ করে আসতে পারলে আরো ভালো লাগত।’

ব্যাটিং অর্ডারে তিন থেকে চারে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজের সমর্থনের কথা স্পষ্ট করে বলেননি সাকিব। তবে টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাচ্ছেন তিনি। বলেছেন, ‘সবসময় আমি দলের হয়ে খেলার চেষ্টা করি। আমার কাছে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলগত অর্জন সব সময়ই বড় মনে হয়।’