হোয়াইট হাউজ থেকে বিদায় নিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বুধবার প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট জো বাইডেনের শপথ নেওয়ার আগেই তিনি স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে ওয়াশিংটন ছাড়েন। শান্তিপূর্ণভাবেই তিনি ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে চলে যান। তিনি তার উত্তরসূরি বাইডেনের শপথেও অংশ নেননি। এর আগে এক বিদায়ি ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘যা করতে এসেছিলাম তার সবই করেছি, আমি তার সবকিছুই করেছি এবং নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু করিনি।’ এদিকে ট্রাম্পের বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না তারই রানিংমেট মাইক পেন্স। —খবর বিবিসি ও সিএনএনের
যেভাবে বিদায় ট্রাম্পের :যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট হিসেবে চার বছরের মেয়াদ শেষে বিদায় নিয়েছেন ট্রাম্প। ফেসবুকে ৬৮ হাজারের বেশি মানুষ বলেছেন, তারা ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন দেখাতে এই অনলাইন ইভেন্টে যোগ দেবেন যেখানে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় অভিষেক হবে। হোয়াইট হাউজের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিদায়ের আগে মধ্যরাত পর্যন্ত ১৪৩ জনকে ক্ষমা করার বিলে স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া শেষ মুহূর্তে তিনি কিছু কাগজে স্বাক্ষর করেছেন। রাত ১০টা পর্যন্ত ইভাঙ্কা ট্রাম্প তাকে সঙ্গ দিয়েছিলেন। পরে তিনিও চলে যান। হোয়াইট হাউজের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাইডেনের জন্য একটা চিঠি রেখে গেছেন। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও তার উত্তরসূরি জিল বাইডেনের জন্য চিঠি রেখে গেছেন। তবে এসব চিঠির বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। সাধারণত ঐতিহ্য অনুযায়ী এমন চিঠি বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি তাদের উত্তরসূরির জন্য রেখে যান।
স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মেলানিয়াকে হোয়াইট হাউজ থেকে শেষবারের মতো বিদায় দেওয়া হয়। তাদেরকে মেরিন ওয়ান বিমানে করে জয়েন্ট বেইজ অ্যান্ড্রিউতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে শেষ বারের মতো হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তা এবং পরিবারের সদস্যরা বিদায় জানান। সেখানে ট্রাম্প শেষবারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে বক্তব্যও দেন। বক্তব্য দেন মেলানিয়াও। ট্রাম্প জো বাইডেন এবং কমলা হ্যারিসের নাম উল্লেখ না করলেও তাদের সাফল্য কামনা করেন।
ট্রাম্প বলেন, এই পরিবার কত কঠোর পরিশ্রম করেছে, সেই সম্পর্কে কারো কোনো ধারণা নেই। তারা অনেক সহজ জীবন কাটাতে পারত। ট্রাম্প ‘সব সময় লড়াই’ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্প তার পরিবার ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে অনুষ্ঠানে বলেন, আপনারা দারুণ মানুষ। এটি মহান এক দেশ। আপনাদের প্রেসিডেন্ট হওয়া আমার জন্য বিরাট সম্মানের বিষয়। ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমি আপনাদের জন্য সব সময় লড়াই চালিয়ে যাব। আমি নজর রাখব, আমি শুনব এবং আমি বলব, এই দেশের ভবিষ্যত্ এর চেয়ে ভালো কখনো হবে না।’ ট্রাম্প বলেন, কোনো না কোনো কাঠামোতে আমরা আবার ফিরে আসব। জানা গেছে, ট্রাম্পের শেষ বক্তব্য লিখে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প সেই বক্তব্য গ্রহণ করেননি। অ্যান্ড্রিউ বেইজ থেকে ট্রাম্প ও মেলানিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য সংরক্ষিত এয়ারফোর্স ওয়ানে করে ফ্লোরিডায় নিজের অবকাশযাপন কেন্দ্র মার-এ-লাগোতে চলে যান। বাইডেন এবং কমলা যখন শপথ নেন তখন তারা সেই অবকাশ কেন্দ্রেই সময় কাটান। সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে অভিশংসিত হয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি দুই বার প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হয়েছেন। গতকাল বাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৮৬৯ সালে সর্বশেষ অ্যান্ড্রিউ জনসনের পর এই প্রথম আবার এ ধরনের ঘটনা ঘটল।
